অক্সিজেন, খাবার না পেয়ে তরুণীর মৃত্যু, ফের কাঠগড়ায় মেডিকেল কলেজ

ফোর্থ পিলার

অক্সিজেন শেষ হয়ে গিয়েছিল। চিকিৎসাধীন রোগীকে ঠিকমতো খাবার পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। কার্যত প্রায় বিনা চিকিৎসায়, না খেয়ে মারা গেল বছর কুড়ির এক তরুণী। ফের কাঠগড়ায় কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। যদিও এই বিষয় নিয়ে খুব একটা কথা বলতে রাজি হয়নি কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে বলে জানানো হয়েছে। এর আগে একাধিকবার করোনা আক্রান্ত রোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও রোগীমৃত্যুর অভিযোগ উঠেছিল। ফের একই অভিযোগ উঠল গ্রীন বিল্ডিংয়ের বিরুদ্ধে।

গত ৪ সেপ্টেম্বর মেডিকেল কলেজে গ্রীন বিল্ডিংয়ে ভর্তি হন কুড়ি বছরের সুজাতা সাউ। সে কাশীপুর রেলবস্তি এলাকায় থাকে। বাবা ছাতু বিক্রেতা। সুজাতা মহারানী কাশীশ্বরী কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিল। গত ২৪ আগস্ট তার জন্মদিন ছিল। কিছু পরিচিতকে জন্মদিনে ডাকা হয়। এর কিছুদিন পর থেকে সুজাতার শরীর খারাপ হয়। জ্বর, শ্বাসকষ্ট সহ বেশ কিছু উপসর্গ ধরা পড়ে। ২ সেপ্টেম্বর সুজাতার করোনা ভাইরাস টেস্ট হয়েছিল কলকাতার আরজিকর হাসপাতালে।

রিপোর্ট পজেটিভ আসে হাসপাতাল থেকে। মেডিকেল কলেজে রেফার করা হয়। ৪ সেপ্টেম্বর সুজাতাকে ভর্তি করানো হয় মেডিকেল কলেজের গ্রীন বিল্ডিংয়ে। পরিবারের অভিযোগ মেয়েকে ঠিকভাবে খেতে দেওয়া হচ্ছিল না। চিকিৎসায় গাফিলতি হচ্ছিল। মেয়ে আরও অসুস্থ হয়ে পড়েছে। শ্বাসকষ্ট আরও বেশি করে দেখা দিয়েছিল শরীরে। যদিও নার্সরা এই অভিযোগ মানতে রাজি নয়। অন্য রোগিনী জানাচ্ছেন, সুজাতার অক্সিজেন সিলিন্ডার পর্যন্ত ফাঁকা হয়ে গিয়েছিল।

অক্সিজেন না থাকার জন্য সুজাতার প্রচুর সমস্যা দেখা দেয়। খেতে চেয়ে একাধিকবার নার্সদের জানিয়েছে। কিন্তু নার্সরা সেইভাবে নজর দেয়নি। আরও অসুস্থ হয়ে থাকে সুজাতা। শেষপর্যন্ত তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।