অমিত শাহের খাবার এসেছিল অন্য জায়গা থেকে, বাঁকুড়ায় তীব্র আক্রমণ মমতার

ফোর্থ পিলার

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বাঁকুড়ার আদিবাসী পরিবারে গিয়ে মধ্যাহ্নভোজন সেরেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলেন এদিন। ঠাকুর নিয়ে গিয়ে বাসমতি চালের ভাত খাওয়ানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিদ্বেষ ছুড়ে দিলেন। আদিবাসী পরিবারটিকে সেই দিন কার্যত ব্যবহার করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায় সেই বক্তব্যই উঠে আসছে।

এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “দলিতের বাড়িতে গিয়ে তাকে কিছু করতে দেয়নি। বাইরে থেকে ব্রাহ্মণ নিয়ে গিয়েছেন। বাইরে থেকে লোক নিয়ে এসেছে। বেচারার মেয়ের মনে হয় থ্যালাসেমিয়া রয়েছে। তার চিকিৎসার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছিল। আমরা শুধু আপনার বাড়িতে বসে খাবো। আর দেখাবো কেউ তরকারি কাটছে। কিন্তু সেই তরকারি খায়নি। ধনেপাতা কোনও রান্নায় দেওয়া হয়নি। বাঁধাকপিও হয়নি যা কাটছিল। খেয়েছে তো অন্য জিনিস, বাসমতি চাল, পোস্তর বড়া। যা কাগজে দেখেছি।”

অমিত শাহের দলিত পরিবারে গিয়ে খাওয়ার ঘটনা এর আগেও একাধিকবার সামনে এসেছে। এবার বাঁকুড়ায় কর্মসূচিতে এসে আদিবাসী পরিবারের এক বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজ সেরেছিলেন। অমিত শাহ, মুকুল রায়, দিলীপ ঘোষ, সৌমিত্র খান, দেবশ্রী রায় সহ বিজেপির একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা, সাংসদ সেদিন ওই বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন। বাড়ির উঠোনে চেয়ার নিয়ে বসেছিলেন অমিত শাহ। আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকার ভোটব্যাঙ্ক বিজেপি নিজের দিকে আনতে চাইছে। একথা সেই ঘটনা থেকেই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল।

মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, “আমি এখানে আসার পথে একটা তফশিলি গ্রামে গিয়েছিলাম। সবার সাথে আমার কথা হল। আমি বসলাম ওদের মধ্যে। এটা নয়, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের মতো ফাইভ স্টার হোটেল থেকে বাসমতি চাল রান্না করে নিয়ে এসে আর তার বাড়িতে রং করে…..। টাকা দিয়ে স্যানিটাইজ করে বসে লোক দেখানো। আমার শিডিউল ট্রাইব বোনেরা…. শিডিউল কাস্ট বোনেরা ছাড়াচ্ছে ধনেপাতা। আর খাচ্ছে পোস্তর বড়া। এসব লোকে এখন ওসব বুঝে গেছে।”

বাঁকুড়া সফরে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। খাঁতড়ায় তিনি আজ সভা করেন। তার আগে আদিবাসী পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন তিনি। গ্রামে গিয়ে কথা বলেছেন। খাটিয়াতে বসেন মুখ্যমন্ত্রী। বাড়ির মহিলাদের সঙ্গেও বেশ কিছু বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে। পরে মুখ্যমন্ত্রী সেইসব বিষয়কেও সভামঞ্চ থেকে হাতিয়ার করেছেন। আদিবাসী মহিলারা বাড়ি চেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে। জেলাশাসক যাতে বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেন, সে কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।