আজ অযোধ্যা মামলার রায়

ফোর্থ পিলার

আজ ঐতিহাসিক অযোধ্যা মামলার রায় শোনাবে সুপ্রিম কোর্ট। গতকাল রাতে সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। সেখানেই জানানো হয়েছে আজ শনিবার অযোধ্যা মামলার রায় শোনানো হবে। প্রধান বিচারপতির রঞ্জন গগৈর এজলাসে পাঁচ সদস্যের বিচারপতিদের মধ্যে আলোচনার ভিত্তিতে এই রায় প্রকাশিত হবে। বেলা সাড়ে দশটার সময় কাল এই মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।

একথা জানার পরেই রীতিমতো গোটা ভারতবর্ষে এক প্রহর গোনা শুরু হয়ে গিয়েছে। অযোধ্যা মামলা গোটা ভারতবর্ষের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। রামমন্দির নাকি বাবরি মসজিদ এই নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে টানাপোড়েন উত্তরপ্রদেশ সহ গোটা ভারতবর্ষে। হিন্দুত্ববাদ আরও বেশি মাথাচাড়া দেওয়ার পক্ষপাতী হয়ে উঠবে। এমন দাবি করে আসছে বামপন্থী সংগঠনগুলি। তবে কোনদিকে যাবে এখনই পরিষ্কার করা যাবে না।

বিবৃতিতে লেখা আছে, শনিবার সাড়ে ১০টায় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ-এর নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের ডিভিশন বেঞ্চে হবে মামলার শুনানি। বেঞ্চের সদস্যরা হলেন বিচারপতি এসএ বোবদে, বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়, বিচারপতি অশোক ভূষণ এবং বিচারপতি এস আব্দুল নাজির। এছাড়াও মামলার সঙ্গে যুক্ত তিন পক্ষ নির্মোহী আখড়া, সুন্নি সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ড এবং উত্তরপ্রদেশ ও রামলালা বিরাজমানকে কোর্টে উপস্থিত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈর এজলাসে টানা ৪০ দিন ধরে শুনানি চলছিল। কোনও মামলা এজন্য প্রধান বিচারপতি গ্রহণ করেননি। ১৬ অক্টোবর প্রধান বিচারপতি জানিয়েছিলেন শুনানি শেষ। এরপর ২৩ দিনের মধ্যে এই মামলার রায় ঘোষণা হবে, এমনটাই জানানো হয়েছিল। ওয়াকিবহাল মহল মনে করেছিল নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে অযোধ্যা মামলার রায় প্রকাশিত হবে। কারণ আগামী ১৭ নভেম্বর অবসর নিচ্ছেন রঞ্জন গগৈ।

তার আগেই তিনি এই মামলার রায় দিয়ে যাবেন একথা জানা গিয়েছিল। সম্প্রতি অযোধ্যায় প্রচুর পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। প্রশাসনকে অনেক বেশি সজাগ ও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছিল। অযোধ্যায় ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে। এই অবস্থায় বোঝা যাচ্ছিল রায় ঘোষণার দিন চূড়ান্ত।

অযোধ্যার বিতর্কিত সৌধ ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর ধ্বংস হয়েছিল। করসেবকরা হামলা চালিয়েছিল। তারপর দেশের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে দাঙ্গা। পরে এই মামলা এলাহাবাদ হাইকোর্টে চলেছিল। সেখানে হাইকোর্ট জামিয়েছিল, সেই সৌধের জমি সমেত মোট ২.৭৭ একর জমি নির্মোহী আখড়া, সুন্নি সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ড, উত্তরপ্রদেশ ও রামলালা বিরাজমানের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হোক। কিন্তু সেই রায় মানা হয়নি৷ সেজন্য সুপ্রিম কোর্টে মামলা চলে৷

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।