আট হাজার হিন্দু পুরোহিতকে একহাজার টাকা করে ভাতা দেবে রাজ্য সরকার

ফোর্থ পিলার

ভোটের আগে এবার আরও একটি পদক্ষেপ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সনাতন হিন্দু পুরোহিতদের জন্য ভাতা সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। রাজ্যের আটহাজার পুরোহিতকে একহাজার টাকা করে প্রতিমাসে এবার থেকে দেওয়া হবে। পুজোর আগেই এই টাকা দেওয়া শুরু হবে বলে খবর। শুধু তাই নয়, যাদের বাড়ি নেই, তাদের থাকার সংস্থান সরকারি হিসেবে করে দেওয়া হবে। আজ নবান্ন থেকে এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।

সরকারে আসার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইমামদের জন্য ভাতার কথা ঘোষণা করেছিলেন। মুসলিম সমাজকে তোষণ করা হচ্ছে। এই অভিযোগ উঠেছিল রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে। সরব হয়েছিল বিজেপি নেতারা। এবার হিন্দু পুরোহিতদের জন্য ভাতা দেওয়া হবে। বিরোধীরা রীতিমতো ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এই সিদ্ধান্তে। হিন্দুদের ভোটব্যাঙ্ককে নিজের আওতায় নিয়ে আসার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। আক্রমণ করেছেন বাম ও কংগ্রেস নেতারা।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাদের রাজ্যে যাঁরা ইমাম আছেন বা মোয়াজ্জেম আছেন, তাঁদের নিয়ে অনেকে বড় বড় কথা বলেন। তাঁদের ওয়াকফ বোর্ড কেন দেবে! আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যাঁরা গরিব পুরোহিত, অনেকেই আমাদের কাছে সমস্যার কথা বলেছেন, সে সব কথা মাথায় রেখে আমরা হাজার টাকা করে মাসে তাঁদেরও দেব। সেইসঙ্গে যাঁদের বাড়ি নেই, তাঁদের বাড়িও বানিয়ে দেব বাংলা আবাস যোজনায়।”

এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এরকম আট হাজার পুরোহিতের তালিকা আমরা পেয়েছি। তাঁদের মাসে হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।” পাশাপাশি, যাঁদের বাড়ি নেই তাঁদের বাংলার আবাস যোজনার বাড়ি দেওয়া হবে। রাজ্যে বিজেপি তৃণমূল কংগ্রেসের উপর কার্যত নিঃশ্বাস ফেলছে। আগামী বছর মে মাসের মধ্যেই ভোট। এই অবস্থায় রাজ্যের ভোটব্যাঙ্ককে নিজেদের দিকে নিয়ে আসার চেষ্টা শুরু করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওয়াকিবহাল মহল এই কথা জানাচ্ছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন আরও বলেন, “সনাতন ধর্মের অনেকেই একটা অনুরোধ করেছেন তাঁদের জন্য তীর্থস্থান গড়ে দেওয়ার। আমরা তা গড়ার জন্য কোলাঘাটে জমি চিহ্নিত করেছি।” আজ হিন্দি দিবস। বাংলা মাতৃভাষা এই রাজ্যের। বাঙালিরা সমস্ত ভাষাকেই সম্মান করে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা ২০১১ সালেই একটি হিন্দি অ্যাকাডেমি গঠন করেছিলাম। আজ হিন্দি অ্যাকাডেমি কমিটিও গঠন করছি। এছাড়া দলিত সাহিত্য অ্যাকাডেমিও গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মতুয়া ডেভেলপমেন্ট বোর্ডও গঠন করেছি আমরা।”

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।