আনারসের মধ্যে বাজি, বিস্ফোরক মিশিয়ে খেতে দিল মানুষ, অন্তঃসত্ত্বা হাতির প্রাণ গেল

ফোর্থ পিলার

শিক্ষিত সমাজ ব্যবস্থার নগ্ন চেহারা। খাবারের সন্ধানে বন থেকে বেরিয়ে আসা হাতিকে খেতে দেওয়া হয়েছিল বাজি, বিস্ফোরক শুদ্ধ আনারস। আনারস খাওয়ার পরে বাজির বিস্ফোরণ হয়। রক্তাক্ত মুখ নিয়ে সেই হাতি চার ঘণ্টা পুকুরের জলে দাঁড়িয়েছিল। যন্ত্রণা কমানোর ব্যর্থ চেষ্টা। সব থেকে বড় কথা পূর্ণ বয়স্কা ওই মহিলা হাতিটি অন্তঃসত্ত্বা ছিল। সে ও গর্ভের সন্তান দুইই মারা গিয়েছে।

নির্লজ্জ, অসহায় এই ঘটনা ভারতের সব থেকে শিক্ষিত রাজ্য কেরলের। মাল্লাপ্পুরম এলাকার বাসিন্দারা এই কাজ করেছে। পাশের বন থেকে হাতিটি কয়েক দিন আগে বেরিয়ে এসেছিল লোকালয়ে খাবারের সন্ধানে। হাতিটি কাউকেই আঘাত করেনি। কোনও বাড়িঘর ভাঙেনি। খাবারের সন্ধান করছিল হাতিটি। এই ঘটনা কেরলের বন দফতরের ফরেস্ট অফিসার মোহন কৃষ্ণণ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি সহ লিখেছেন। এক অসহায় মৃত্যু মা ও গর্ভস্থ সন্তানের।

মোহন কৃষ্ণণ লিখেছেন, “ওর মুখের ভিতর বারুদ ঠাসা আনারসটা বিস্ফোরণ হওয়ার পরেও বোধহয় ও ঠিক বুঝতে পারেনি কী হয়েছে ওর সঙ্গে। তীব্র জ্বালা যন্ত্রনায় গোটা গ্রাম ঘুরে বেরিয়েছে। কিন্তু একটা বাড়িও ভাঙেনি। কোনও লোককে আক্রমণ করেনি। নিঃসন্দেহে ও বুঝেছিল অন্তিম সময় এগিয়ে এসেছে। আর তখন নিশ্চয় সবার আগে গর্ভস্থ সন্তানের কথাই মাথায় এসেছিল ওর।”

মোহনের লেখা থেকেই জানা গিয়েছে হাতিটি বন থেকে বেরিয়ে খাবারের সন্ধানে ওই এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছিল। কারোর কোনও অনিষ্ট করেনি। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের কয়েকজন হাতিটিকে আনারস খাওয়ায়। সেই আনারসের মধ্যে বাজি ও বারুদ মিশিয়ে দেওয়া হয়েছিল। খাবার দেখে আর তর সয়নি। হাতিটি খিদের তারণায় সেই আনারস মুখে ঢুকিয়ে দেয়। এর পরেই তার মুখের ভেতর বাজি থেকে বিস্ফোরণ হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় সে কারোর কোনও ক্ষতি করেনি।

বরং যন্ত্রণা মেটানোর জন্য এলাকার একটি পুকুরে নেমে দাঁড়িয়ে থাকে। খবর পেয়ে বন দফতরের কর্মীরা হাজির হয়। মোহন নিজেও হাজির হয়েছিলেন হাতিটিকে উদ্ধার করার জন্য। বহু চেষ্টা করা হয়েছিল তাকে জল থেকে তুলে নিয়ে আসার। কিন্তু মাঝপুকুরে দাঁড়িয়ে থাকে। হাতিটি কারোর কথা শোনেনি। ঘন্টা চারেক ধরে সে একইভাবে দাঁড়িয়েছিল জলের মধ্যে। তারপর তার শরীর ছেড়ে দেয়।

জল থেকে তাকে সেই অবস্থায় উদ্ধার করার পর তার সেই পুরনো বনে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তখন আর তার প্রাণ নেই। সেখানেই যোগ্য সম্মান দিয়ে তার দাহ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মোহন কৃষ্ণণ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।