“আমার বিরুদ্ধে কেস, শোকজ করলেও কিছু এসে যায় না”, বললেন মুখ্যমন্ত্রী

ফোর্থ পিলার

সংখ্যালঘু ভোট ভাগ করার চেষ্টা করছে বিজেপি। বরাবর এই বক্তব্য রাখছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারকেশ্বরের সভামঞ্চ থেকে তিনি যথেষ্ট উদ্ধতভাবে সংখ্যালঘু ভোট ব্যাঙ্ক প্রসঙ্গে বক্তব্য রেখেছিলেন। নির্বাচন কমিশন তাকে নোটিশ পাঠিয়েছে। এবার সেই বিষয়ে মুখ খুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাকে নোটিশ পাঠিয়ে খুব একটা বেশি লাভ হবে না। তিনি তার বক্তব্য থেকে এতটুকু নড়বেন না। এই কথা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার একাধিক জনসভা ছিল তার। সেখানেই তিনি সংখ্যালঘু প্রসঙ্গ ও কমিশন বিষয় এই মন্তব্য করেছেন।

গত ৩ এপ্রিল তারকেশ্বরে নির্বাচনী প্রচারে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, “শয়তানদের কথা শুনে সংখ্যালঘু ভোট ভাগ হতে দেবেন না।” এই বিষয়ে সরগরম হয় রাজ্য রাজনীতি। মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন, “বাংলাকে বিজেপি ধর্মের নামে ভাগ করে দিতে চাইছে। বাংলার সংস্কৃতি নষ্ট করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।” মমতার এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে কমিশনের দ্বারস্থ হন বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মুখতার আব্বাস নকভি।

সেই অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার মুখ্যমন্ত্রীকে নোটিশ পাঠায় নির্বাচন কমিশন। শুক্রবার অর্থাৎ আগামী কালের মধ্যে মমতাকে জবাব দিতে হবে। নিজের মন্তব্যকে ব্যাখ্যা দিতে হবে। এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীকে। এবার সেই বিষয়ে পালটা বক্তব্য রাখলেন তৃণমূল নেত্রী। ডোমজুড়ের সভা থেকে আক্রমণ করলেন মমতা। মুখ্যমন্ত্রী বললেন, “আমার বিরুদ্ধে কেস, শোকজ করলেও কিছু এসে যায় না। মোদির বিরুদ্ধে ক’টা অভিযোগ দায়ের হয়েছে? যারা নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়ে বলছে পাকিস্তান, তাঁদের তো কিছু হচ্ছে না। পরিকল্পনা করে আমার বিরুদ্ধে এসব করে কোনও লাভ হবে না।”

বিজেপি চাইছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া বার্তা দিক নির্বাচন কমিশন। দিলীপ ঘোষের উপর হামলার ঘটনাতেও মুখ্যমন্ত্রীর প্ররোচনা রয়েছে। এই অভিযোগ আনা হয়েছে। তৃণমূল এই সমস্ত বিষয় নিয়ে খুব একটা বক্তব্য রাখতে রাজি নয়। তাদের দাবি, যে কোনও উপায়ে বিজেপি এলাকায় সন্ত্রাস চালাতে চাইছে। নির্বাচন কমিশনকে নির্দিষ্ট সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জবাব দেবে। একথা জানিয়েছেন সাংসদ সৌগত রায়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।