ইন্টারলোকেটরি অ্যাপ্লিকেশন করেন মুখ্যমন্ত্রী, বিচারপতি জানান, মামলা শুনবেন তিনি

ফোর্থ পিলার

নন্দীগ্রাম ভোট গণনা মামলার শুনানি হল। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৌশিক চন্দের এজলাসে এই শুনানি হয়। শেষমুহূর্ত পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেস ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চেয়েছিলেন এই মামলা অন্য এজলাসে স্থানান্তরিত হোক। মুখ্যমন্ত্রীর তরফে বুধবার রাতে ইন্টারলোকেটরি অ্যাপ্লিকেশন করা হয়েছিল।

এক্ষেত্রে বিচারক বিচারপতি কৌশিক চন্দ যাতে নিজেই এই মামলা থেকে সরে যান। সেই আবেদন রাখা হয়। এদিন এজলাসে দুটি বিষয়ে শুনানি হয়। একটি হল অন্য এজলাসে মামলা স্থানান্তর। অপরটি ভোট গণনার ফল সম্পর্কিত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভার্চুয়ালি এদিন উপস্থিত ছিলেন শুনানির সময়। বিচারপতি কৌশিক চন্দ বিজেপির সঙ্গে যোগসূত্রে রয়েছেন। একথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল। মামলায় পক্ষপাতিত্ব হতে পারে। সেই কথা তুলে অন্য এজলাসে সেটি স্থানান্তরের আবেদন করা হয়।

কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি এই আবেদন খারিজ করে দিয়েছিলেন। তবুও বুধবার রাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে বিচারপতি কৌশিক চন্দের কাছেই এই বিষয়ে ইন্টারলোকেটরি অ্যাপ্লিকেশন জমা পড়ে। বিচারপতি এদিন এই বিষয়ে জানান, তার মামলা শুনতে কোনও আপত্তি নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে সওয়াল করছেন অভিষেক মনু সিংভি। তিনি কৌশিক চন্দকে জানিয়েছিলেন, মুখ্যমন্ত্রীর তরফ একাধিকবার আবেদন করার পরেও কেন বিচারপতি নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছেন না এই মামলা থেকে?

বিচারপতি এই বিষয়ে মান্যতা দেননি। তিনি জানিয়েছেন, আইনজীবী থাকাকালীন বিজেপির পক্ষে তিনি মামলা লড়েছেন। সে সময় রাজ্যে বিজেপির অবস্থান এত জোরালো ছিল না। কাজেই কর্মক্ষেত্রে কোনও বিষয়কে এখন সামনে আনা যুক্তিযুক্ত নয়। একথা মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এই হিসেবে বিচারপতি কৌশিক চন্দ নিজে এই মামলার শুনানি শুনবেন। তাতে কোনও আপত্তি নেই। এরপরে সওয়াল-জবাব চলে ভোটগ্রহণ ও ফলাফল ইস্যুতে। বৃহস্পতিবার দুপুরে শুনানি শেষ হয়। কিন্তু কোনও রায় বিচারপতি দেননি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।