ইমপিচমেন্ট ট্রাম্প, হোয়াইট হাউস ছাড়া সময়ের অপেক্ষা

ফোর্থ পিলার

আমেরিকার ইতিহাসে এই নিয়ে তিনজন প্রেসিডেন্ট ইমপিচমেন্ট হলেন। আর ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দুবার ইমপিচমেন্ট করা হল। এবার মার্কিন সেনেট কি করবে? তার উপরে সব কিছু নির্ভর করে রয়েছে। মনে করা হচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতাড়িত হওয়া এখন সময়ের অপেক্ষা। মেয়াদ ফুরানোর ৬ দিন আগেই হোয়াইট হাউস থেকে কার্যত বিতাড়িত ডোনাল্ড ট্রাম্প।

আইনি প্রক্রিয়া এখনও কিছু বাকি রয়েছে।।সেই সমস্ত কাজের দিকেই এখন সেনেট মেম্বাররা লক্ষ্য রেখেছেন। বুধবার মার্কিন কংগ্রেসের হাউসে ভোটাভুটি শুরু হয়। নজিরবিহীন নিরাপত্তা ছিল সেখানে। সাধারণ মানুষ, হামলাকারী যেন কাছ পর্যন্ত পৌঁছাতে না পারে। ক্যাপিটাল বিল্ডিংয়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হয়েছে আলাদাভাবে।

দীর্ঘসময় ভোটাভুটি চলে। ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের ক্ষমতা ধরে রাখতে পারেননি। ২৩২ জন ইমপিচমেন্ট-এর পক্ষে রায় দিয়েছেন। ১৯৭ টি ভোট পেয়েছেন ট্রাম্প নিজের পক্ষে। সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রিপাবলিকান পার্টির ১০ জনের ভোট গিয়েছে বিরোধী শিবিরে। এই পরিস্থিতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প আর কত সময় হোয়াইট হাউসে থাকবেন? তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ক্যাপিটাল ভবনে নজিরবিহীন আক্রমণ চালানোর জন্য ট্রাম্প অভিযুক্ত।

একজন প্রেসিডেন্ট কি করে এই কাজ করতে পারেন? প্রশ্ন উঠেছিল আমেরিকায়। ডোনাল্ড ট্রাম্প একইভাবে নিজের চিন্তাভাবনায় একবজ্ঞা ছিলেন। তিনি কোনওভাবেই ক্ষমতা ছেড়ে দিতে রাজি নন। তার কারণে আমেরিকার গণতান্ত্রিক ইতিহাস কালিমালিপ্ত হয়েছে। ৫ জন মানুষ মারা গিয়েছেন। গোটা বিশ্বের কাছে এই ঘটনা নজিরবিহীন। হামলা চালানোর জন্য উসকেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজে।

দীর্ঘসময়ের শুনানি চলছে। ট্রাম্পকে ইমপিচমেন্ট করা উচিত কি উচিত নয়? সেই বিতর্কে বক্তব্য শুরু করেন হাউজের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি। ন্যান্সি বলেন, “আইনের উর্ধ্বে কেউ নয়। আমেরিকাও না, প্রেসিডেন্টও না। অন্যায় করলে শাস্তি পেতেই হবে।” দ্রুত হোয়াইট হাউস ছাড়ার পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষ হবে। আগামী ২৪ তারিখ পর্যন্ত জরুরি অবস্থা জারি করা রয়েছে রাজধানীতে। ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজে এই নির্দেশ জারি করেছেন।

এফবিআই রীতিমতো সতর্কবার্তা দিয়েছে। জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট পদে বসার দিনে আমেরিকায় হামলা হতে পারে। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে নাশকতার ছক রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কিভাবে সমস্ত কিছু মোকাবিলা করা হবে? তাই নিয়ে চলছে জোর আলোচনা। ভারতীয় সময় বুধবার মধ্যরাতে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইমপিচ করা হল। এর আগে দুজন মার্কিন প্রেসিডেন্টকে করা হয়েছিল। বিল ক্লিনটন এবং এন্ড্রু জনসন রয়েছেন। তারা দুজনেই শেষ পর্যন্ত সেনেটে রেহাই পেয়েছিলেন।

কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষেত্রে সেই কাজ সম্ভবত হবে না। যদি কোনও প্রেসিডেন্ট অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়েন, দেশবিরোধী কাজ করেন, তার বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট আনার অধিকার আছে। এ কথাই আমেরিকার গণতন্ত্রের লেখা রয়েছে। সেই হিসেবেই এই প্রক্রিয়া চলছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।