ই স্নানে শেষপর্যন্ত সায়, গঙ্গাসাগর মেলার ছাড়পত্র হাইকোর্টের

ফোর্থ পিলার

রাজ্যের ব্যাখ্যা সন্তোষজনক নয়। একথা জানিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। তবু শেষপর্যন্ত গঙ্গাসাগর মেলার জন্য ছাড়পত্র দিল মহামান্য আদালত। ই- স্নানের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকার নিরুৎসাহ করবে পূণ্যার্থীদের স্নান করা থেকে। একথা আদালত জানিয়েছে। তবে সাগরে স্নান করার ক্ষেত্রে কোনও নিষেধাজ্ঞা জারি করেনি আদালত।

কলকাতা হাইকোর্টে গঙ্গাসাগর মেলা নিয়ে জনস্বার্থ মামলা চলছিল। আজ বুধবার আদালতে রায় শুনিয়েছে। আগে রাজ্য সরকারকে এই বিষয় নিয়ে হলফনামা পেশ করতে বলেছিল কলকাতা হাইকোর্ট। করোনা ভাইরাস আবহে গঙ্গাসাগর মেলা হচ্ছে। লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম হয় গঙ্গাসাগরে। সামাজিক দূরত্ববিধি কিভাবে মেনে চলা সম্ভব? সেই প্রশ্ন উঠেছিল।

এত সংখ্যক মানুষ স্নান করতে নামলে সংক্রমণ লাফিয়ে বাড়তে পারে। ড্রপলেট স্থানের সময় একে অন্যের শরীরে ঢুকে যেতে পারে। এই আশঙ্কা করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। রাজ্য সরকার সংক্রমণ ঠেকাতে কি ব্যবস্থা নিচ্ছে? সেই প্রশ্ন আদালত করেছিল। স্বাস্থ্যসচিবকেও এই বিষয় নিয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। কোনও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা রাজ্যের কাছে আছে কিনা সে প্রশ্ন করা হয়। রাজ্য সরকার জানিয়েছে, ই স্নানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

যতটা সম্ভব সামাজিক দূরত্ববিধি মেনে চলা হবে। এছাড়াও স্যানিটাইজার, মাক্স প্রভৃতি দেওয়াও ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে করোনা আবহে। বিচারক অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যসচিবের রিপোর্ট দেখেছেন। তিনি বলেন, “রাজ্য ই স্নানের ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু এটি সমস্যার উত্তর হতে পারে না।” তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন, “আপনার স্বাস্থ্যসচিব কি এক্ষেত্রে কোনও বৈজ্ঞানিক উপায় বের করতে পারবেন?”

রাজ্যের এজি কিশোর দত্ত জানান, নদী থেকে দূরে স্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এদিন বিকেল চারটায় ফের শুনানি ছিল। শেষ পর্যন্ত আদালত গঙ্গাসাগর মেলার জন্য ছাড়পত্র দিয়েছে৷ যারা ই স্নান করবেন, তাদের জন্য মেলা প্রাঙ্গণে সব ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। এজন্য কোনও অর্থ নেওয়া হবে না। রাত পোহালেই সাগর স্নান।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।