একবালপুরে তরুণী খুনে গ্রেফতার দম্পতি

ফোর্থ পিলার

একবালপুরে তরুণীর খুনের ঘটনায় খুব একটা জোরালো সূত্র পুলিশের কাছে এখনও আসেনি। রবিবার সকালে খুনের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে এক দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ধৃত দম্পতির নাম মহম্মদ সাজিদ হোসেন ও অঞ্জুম বেগম। পুলিশের কাছে খবর সাজিদের সঙ্গে সাবা খাতুনের প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। তার স্ত্রী এই সম্পর্ক মেনে নেয়নি। সম্ভবত সেখান থেকেই সাবাকে খুন করা হয়েছে।

পুলিশ জানাচ্ছে, সাজিদের বাড়ির সামনে থেকেই বস্তাবন্দি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ওই এলাকার দুটি সিসিটিভি খারাপ রয়েছে। সাজিদ এই কথা জানত। তাই রাত দুটো নাগাদ খুন করে বাড়ির বাইরে রেখে দেওয়া খুব একটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। জানা যাচ্ছে, মহম্মদ সাজিদ হোসেনের সঙ্গে সাবার যোগাযোগ হয়েছিল। তারপর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। অঞ্জুম বেগম এই ঘটনা জানতে পারে। স্বামী স্ত্রীর মধ্যে সাবাকে নিয়ে যথেষ্ট গণ্ডগোল চলছিল। সাবাকে বিয়ে করতে চেয়েছিল সাজিদ।

পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, সম্ভবত শেষপর্যন্ত স্বামী-স্ত্রী একজোট হয়ে যায়। এরপরেই সাবা খাতুনকে দুজনে মিলে খুন করেছে। কিন্তু পরিষ্কার তথ্য-প্রমাণ এখনও সামনে আসছে না। সাবার মোবাইল ফোনটিও এখনও পাওয়া যায়নি। সেটি থাকলে তার সূত্র থেকে অনেক তথ্য বেরিয়ে আসত। সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, মাদকচক্রের সঙ্গে জড়িত ছিল সাবা। তাই একাধিক মানুষের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল।

পুলিশ জানাচ্ছে, বস্তাবন্দি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। সন্ধ্যা থেকে সাবার কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। মৃতদেহ উদ্ধারের পর দেখা যায় গলায় ফাঁস লাগানোর দাগ স্পষ্ট। হাতে সিগারেটের ছ্যাকা রয়েছে। অনুমান করা হয়েছিল মৃত্যুর আগে সাবার কারো সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক পর্যন্ত হয়। ময়নাতদন্তে জানানো হয়েছে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে ওই তরুণীকে। পুলিশের নজরে সাবার বান্ধবী রেশমা ও তার মাও রয়েছে। তারাও মাদক পাচারচক্রের সঙ্গে জড়িত। একথা জানা যাচ্ছে।

কেন রেশমার বাড়িতে সাবা থাকতে শুরু করল! সেটি নিয়েও জল্পনা রয়েছে। মা-মেয়েকে জেরা করা হচ্ছে। কিন্তু স্পষ্ট কোনও কথা পাওয়া যায়নি। সাবার পকেট থেকে মাদকের পুড়িয়া পাওয়া গিয়েছিল। কাজেই এখনও জল্পনা রয়েছে এই ঘটনায়। রবিবার ভোর রাতে মহম্মদ সাজিদ হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। আজ সকালে তার স্ত্রী অঞ্জুমকেও গ্রেফতার করে পুলিশ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।