একলাফে দৈনিক মৃত্যু চার হাজার, মহারাষ্ট্রেই আড়াই হাজার

ফোর্থ পিলার

দেশে এক লাফে বাড়ল৷ দৈনিক করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা। গতকাল এই সংখ্যা ছিল ৩৭৪। গত ২৪ ঘন্টায় এক লাফে সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে প্রায় চার হাজার। মহারাষ্ট্রতে গত ২৪ ঘন্টায় মারা গিয়েছেন প্রায় আড়াই হাজার মানুষ। এই সংখ্যা আবারও উদ্বেগ ছড়ালো। কেন এতজন মানুষ একসঙ্গে মারা গেলেন একদিনে? তাই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাহলে কি করোনা সংক্রমণে মৃত্যুর মিছিল ফের শুরু হয়ে গেল? প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে বিভিন্ন মহলে।

গত একমাস ধরে দেশের করোনা সংক্রমণ ও সুস্থতার সংখ্যা প্রতিদিন ওঠানামা করছে। গতকাল দৈনিক সংক্রমণ ১২৫ দিনের নিরিখে সর্বনিম্ন ছিল। গত ২৪ ঘন্টায় সেই সংক্রমণও বেড়ে গিয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক তথ্য দিয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় ভারতে ৪২ হাজার মানুষ নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। সুস্থতার সংখ্যা কমে এসেছে অনেকটাই। প্রায় ৩৭ হাজার মানুষ করোনা জয় করে সুস্থ হয়ে উঠেছেন গত একদিনে। গতকাল সুস্থ হওয়ার সংখ্যা ছিল 42 হাজারের বেশি।

পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। একথা মনে করছেন চিকিৎসকরা। গত একমাস ধরে ৫০ হাজারের নিচে রয়েছে দৈনিক সংক্রমণ। দৈনিক আক্রান্তের গড় ২.২৭ শতাংশ। তবে সংক্রমণের তৃতীয় ঢেউ আগামী এক মাসের মধ্যে ভারতে দেখতে পাওয়া যাবে। এই আশঙ্কা বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরেই চলছে। তার থেকেও বড় কথা চিকিৎসক ও বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, সংক্রমণের তৃতীয় ঢেউ রুখতে এখন থেকে বিধিনিষেধের কড়াকড়ি হওয়া প্রয়োজন। আগামী ১০০- ১২০ দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই সময় বিধিনিষেধ নিয়ন্ত্রণে থাকলে পরিস্থিতি আয়ত্তের মধ্যে থাকবে। নয়তো আগামী দুই মাসের মধ্যে ভারতের তৃতীয় সংক্রমণের ঢেউ আছড়ে পড়বে। সেক্ষেত্রে জনজীবন সম্পূর্ণ ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল থাকছে। টিকাকরণ কর্মসূচিতে জোর দিতে হবে। একথা প্রতিদিন বলা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকার টিকার জন্য উপযুক্ত পরিকাঠামোর গড়ে তুলুক। টিকা সরবরাহ পূর্ণ মাত্রায় হোক। এই দাবি বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির থেকে উঠেছে। টিকা অপ্রতুলতার জন্য তৃতীয় সংক্রমণ ঢেউ বড় সমস্যাজনক হতে পারে। এই আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা। দেশে মোট টিকাকরণের সংখ্যা ৪১ কোটি ৫৪ লক্ষ সাড়ে ৭২ হাজার প্রায়।

টিকার দ্বিতীয় ডোজ খুব একটা বেশি সংখ্যায় হয়নি। একথা এখন পরিষ্কার। তৃতীয় ঢেউ আসার আগে দুটি ডোজের উপর গুরুত্ব দিতে হবে। এই কথা বারবার দাবি উঠেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সাড়ে ১৮ লক্ষ করোনা পরীক্ষা হয়েছে ভারতে। এই সংখ্যা লক্ষ্যণীয়ভাবে কমে গিয়েছে। টেস্ট বাড়ালে সংক্রমণের সংখ্যা আরও বাড়বে। এ কথা সহজেই অনুমান করা যায়। মহারাষ্ট্র নিয়ে উদ্বিগ্নতা ছড়িয়েছে নতুন করে। পাশাপাশি কেরল রাজ্যেও সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী। অ্যাক্টিভ রোগীর সংখ্যা আরও কিছুটা কমেছে। চার লক্ষ সাত হাজারের সামান্য বেশি এই মুহূর্তে অ্যাক্টিভ রোগীর সংখ্যা। মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৪ লক্ষ সাড়ে ১৮ হাজার প্রায়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।