কম খরচে কীভাবে ভ্রমণ করবেন

ফোর্থ পিলার

ভ্রমণপিপাসু মন আর খানিকটা সচেতনতাই আপনার ভ্রমণের খরচ কমিয়ে দিতে পারে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ।

১. যেখানে যেতে চাইছেন, সেই স্থান সম্পর্কে জানুন ভালোমতো
কোনো জায়গা সম্পর্কে ঠিকঠাক না জেনেই হুট করে চলে গেলে খরচ যেমন বেড়ে যায় বহুগুণ, তেমনি পদে পদে বিপদেও পড়তে হয়। অনেক সময় পূর্ব ধারণা না থাকার কারণে ভ্রমণের আনন্দটাই মাটি হয়ে যায়। তাই যেখানে যাবেন বলে ঠিক করেছেন, সেই জায়গা সম্পর্কে রীতিমতো পড়াশোনা করে নিন। সেখানকার মানুষজন, আবহাওয়া, প্রকৃতি, ভ্রমণের উপযুক্ত সময়, থাকার জায়গা, জিনিসপত্রের দরদাম, খাবার-দাবার, ঐতিহাসিক স্থান হলে এর ইতিহাস, যানবাহন ইত্যাদি সম্পর্কে খুঁটিনাটি তথ্যগুলো জানার চেষ্টা করুন। গুগল, ইউটিউব, বিভিন্ন ট্রাভেল ব্লগের সাহায্যে খুব সহজেই কাজটি করা যেতে পারে। এতে আপনার ভ্রমণ পরিকল্পনা সাজাতে সুবিধা হবে।

২. আগে সেই জায়গায় গিয়েছেন এমন কারও সাথে কথা বলুন
এই পদ্ধতিটি বেশ কাজে দেয়। যিনি আগে একবার ওই স্থান ঘুরে এসেছেন, তিনি আপনাকে বেশ ভালো ধারণা দিতে পারবেন। থাকা-খাওয়ার খরচ, গাইড, সেখানকার মানুষজন, নিয়মকানুন সম্পর্কে তার রয়েছে বাস্তব ধারণা। তার পরামর্শ নিন।

৩. ভ্রমণ পরিকল্পনা সাজান
ভ্রমণ পরিকল্পনা সাজানো খুব জরুরি বিষয়। আপনার বাজেট, সদস্য সংখ্যা, সময় মাথায় রেখে ছিমছাম একটি ভ্রমণ পরিকল্পনা সাজান। কিছু অতিরিক্ত বাজেট রাখুন, হোক না সামান্য, বিপদে-আপদে কাজে লাগতে পারে।

৪. চেষ্টা করুন দলীয় ভ্রমণের
একা নয়; বরং চেষ্টা করুন দলীয়ভাবে ভ্রমণ করতে। এতে খরচ যেমন কমবে, তেমনি বিপদে-আপদে বেশ ভালো সাপোর্টও পাবেন। দলীয়ভাবে ভ্রমণ করলে খরচগুলো ভাগাভাগি করে নেওয়া যায়। ধরা যাক, ট্যাক্সি ভাড়া ১ হাজার টাকা। একা গেলে পুরো খরচ আপনাকে একাই বহন করতে হতো। কিন্তু যদি চারজনের গ্রুপ হয়, তা হলে সেই খরচ নেমে আসবে ২৫০ টাকায়। এ ছাড়াও হোটেল, গাইড, খাবারের খরচও ভাগাভাগি করে নিতে পারেন। দলীয় ভ্রমণ আপনার ভ্রমণ খরচের অনেকটাই সাশ্রয় করবে।

তবে হ্যাঁ, দলের সদস্য নির্বাচনের ব্যাপারে খেয়াল রাখবেন। ধরুন, যাচ্ছেন ট্রেকিং করবেন বলে। কিন্তু স্পটে গিয়ে কেউ বলল সে ট্রেকিং করবে না, তখন একটা সমস্যা সৃষ্টি হবে। আবার অনেকেরই থাকা- খাওয়ার ব্যাপারে অতিরিক্ত বাছবিচার থাকে। অনেকে আবার রুম শেয়ার করতে পারেন না। দলীয় ভ্রমণের আগে থেকেই তাই সমগ্র ভ্রমণ পরিকল্পনা গ্রুপের সবার সাথে শেয়ার করে নেওয়া ভালো। এতে অনাকাক্সিক্ষত সমস্যার সম্ভাবনা কমে যায়।

৫. চেষ্টা করুন অফ সিজনে যেতে
অফ সিজনে থাকা-খাওয়ার খরচ অনেকটাই কম লাগবে। সেজন্য অফ সিজনে যেতে পারেন। আবার অফ সিজনের আগে বা পরে কাছাকাছি কোনো সময়েও যেতে পারেন। তখনও খরচ কিছুটা কম লাগবে।

৬. দরদাম করতে শিখুন
এই গুণটা থাকা খুব জরুরি। বাইরে কোথাও গেলে হোটেল কিংবা ট্যাক্সি ভাড়া করার সময় দরদাম করে নিন। একটু যাচাই-বাছাই করে নিলে ক্ষতি তো নেই। শপিংয়ের বেলাতেও একই কথা প্রযোজ্য।

৭. আগে থেকেই টিকিট কেটে ফেলুন
সম্ভব হলে আগে থেকেই টিকিট কেটে রাখুন। এতে অনেক সাশ্রয়ে টিকিট কিনতে পারবেন। অনেক সময় এয়ারলাইন্সগুলোতে বিভিন্ন অফার থাকে। সেগুলো কাজে লাগাতে পারেন। একটু চোখ-কান খোলা রাখলে এ সুযোগটি পেয়ে যেতে পারেন।

৮. সরকারি পরিবহন ব্যবহার করার চেষ্টা করুন
অনেক জায়গায় সরকারি পরিবহনের ভাড়া তুলনামূলক কম থাকে। যেমন কলকাতায় আমাদের বিআরটিসি বাসের মতন অনেক বাস আছে। সেগুলোর ভাড়া বেশ কম। এ ধরনের পরিবহন ব্যবহারে ট্যাক্সি বা অটোর চেয়ে ভাড়াটা কম পড়বে নিঃসন্দেহে।

৯. অদলবদল করতে পারেন
যদিও এটা এখনও আমাদের দেশে অতটা প্রচলিত নয়। ধরুন, আপনি চট্টগ্রাম যাবেন, সেখানকার কোনো বন্ধু আপনাকে হোস্ট করল। আবার সে আপনার এলাকায় এলে আপনি তার হোস্ট হলেন। এতে দুজনেরই থাকা-খাওয়ার খরচটা বাঁচবে।

১০. স্থানীয় খাবার খান
কোথাও গেলে সেখানকার স্থানীয় মানুষজন যা খায় তা-ই খেতে চেষ্টা করুন। এতে খরচ লাগবে কম আর খাবারে পাবেন নতুন আমেজ।

১১. গুগল ম্যাপ ও ট্রাভেল অ্যাপগুলোর সাহায্য নিন
গুগল ম্যাপ থেকে জেনে নিন আশপাশের দর্শনীয় স্থানগুলোর অবস্থান। অনেক সময় কাছাকাছি জায়গাগুলোতে হেঁটেই যাওয়া যায়। ট্রিপ অ্যাডভাইজার, কালচার ট্রিপের মতো ট্রাভেল অ্যাপগুলোর সাহায্য নিতে পারেন। এগুলো আপনাকে ভ্রমণের স্থান সম্পর্কে ভালো ধারণা দেবে। এই অ্যাপগুলোর সাহায্যে কাছাকাছি জায়গায় অবস্থিত স্থানগুলো সম্পর্কে জানতে পারবেন। আপনি যে স্থানে আছেন তার আশপাশের দর্শনীয় স্থানগুলো সম্পর্কে আপনাকে জানাবে ট্রিপ অ্যাডভাইজার।

১২. ঘুরতে বের হওয়ার সময় জল ও শুকনো খাবার সাথে রাখুন
কোথাও ঘুরতে গেলে সাথে করে পানি ও শুকনো খাবার ব্যাকপ্যাকে রাখতে পারেন। কারণ দর্শনীয় স্থানগুলোর আশপাশে খাবার ও পানীয়ের দাম তুলনামূলক বেশি হয়।

১৩. খাবার-দাবারের বেলায় কৌশলী হোন
ভ্রমণে গেলে আমরা হুটহাট অনেক কিছু খেয়ে নিই, যা আমাদের ক্লান্ত করে ফেলে। এ ব্যাপারটা মাথায় রাখুন। সকালে পেট ভরে খেতে পারেন। এটা শরীরকে সারাদিন শক্তি জোগাবে। দুপুরের খাবারটা হোক হালকা। আবার রাতে একটু ভারী খাবার খেতে পারেন। খেয়াল রাখবেন যা-ই খাচ্ছেন তা যেন কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ হয়। কেননা ভ্রমণে শরীর থেকে প্রচুর ক্যালরি খরচ হয়।

১৪. ছুটির দিন বাদে ভ্রমণ
সম্ভব হলে ছুটির দিনগুলো বাদ দিয়ে ভ্রমণ করুন। কারণ এ সময় মানুষজন বেশি থাকায় ভিড়ের পাশাপাশি জিনিসপত্রের দামও থাকে বেশি।

১৫. স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ
অনেক সময় অনেক অর্গানাইজেশন স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজের বিনিময়ে বিনা পয়সায় ভ্রমণের সুযোগ দিয়ে থাকে, যদিও এজন্য একটা যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এ সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারেন। এ ধরনের সুযোগ জানতে পারেন ইয়ুথ অপরচুনিটিস নামের এই ওয়েবসাইট থেকে।

মোটামুটিভাবে এ বিষয়গুলো মাথায় রাখলে ভ্রমণ খরচ কমে যেতে পারে অনেকখানিই।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।