করোনা আক্রান্ত ডোনাল্ড ট্রাম্প ও স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প, থাকবেন আইসোলেশনে

ফোর্থ পিলার

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পও করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। শুক্রবার বেলা সাড়ে দশটা নাগাদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজে টুইট করে এই কথা জানিয়েছেন। গোটা বিশ্বে এই মুহূর্তে তার করোনা আক্রান্তের খবরে জোর আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে। আইসোলেশনে থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্প চিকিৎসা করাবেন বলে খবর। তার শরীরে কোনও উপসর্গ এই মুহূর্তে নেই বলে জানা যাচ্ছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টা হিক্স করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এই খবর জানার পরেই সক্রিয় হয়ে ওঠে হোয়াইট হাউস। প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কর্মসূত্রে বেশিরভাগ সময় কাটান এই উপদেষ্টা। ফলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের করোনা ভাইরাস টেস্ট হয়। পাশাপাশি মেলানিয়াও করোনা ভাইরাস টেস্ট করেছিলেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছিলেন, এই মুহূর্তে তিনি কোয়ারান্টাইন রয়েছেন। করোনা ভাইরাস টেস্ট হয়েছে। তার রিপোর্ট আসার অপেক্ষা করছেন তিনি। ভারতীয় সময় শুক্রবার সকালে সেই রিপোর্ট এসে পৌঁছয়। দেখা যায় প্রেসিডেন্ট ও প্রেসিডেন্ট পত্নী করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হয়েছেন।

দুজনের কারো শরীরে তেমন কোনও উপসর্গ নেই। কাজেই দুশ্চিন্তা করার খুব একটা বিষয় নয় বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্টের আক্রান্ত হওয়ার খবর যথেষ্ট উদ্বেগের। মাস পেরোলেই আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। এই মুহূর্তে জোর প্রচারে ব্যস্ত ডোনাল্ড ট্রাম্প। করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে মাঝেমধ্যে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি চীনকে আক্রমণ করেছেন। প্রেসিডেন্টের এই আক্রান্ত হওয়ার পর চীনের প্রতি আক্রমণ আরও বাড়বে। একথা মনে করা হচ্ছে।

ওয়াকিবহাল মহল বলছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরু থেকেই কোনও নিষেধাজ্ঞা মানেননি। কখনওই তিনি মাস্ক ব্যবহার করতেন না। সেনা হাসপাতালে যাওয়ার দিন একবারই তাকে মাস্ক ব্যবহার করতে দেখা গিয়েছিল। সামাজিক দূরত্ব কার্যত হোয়াইট হাউসে পালন করা হত না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মেলামেশার ক্ষেত্রে খুব একটা গণ্ডি রাখতেন না। তবে হোয়াইট হাউস জানাচ্ছে প্রেসিডেন্টের কাছে যাওয়া প্রত্যেককে আগে টেস্ট করানো হয়। রিপোর্ট আসার পরেই প্রেসিডেন্টের কাছে যাওয়ার অনুমতি থাকে।

করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে আমেরিকায় উদ্বেগ বরাবর রয়েছে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জো বাইডেনের দল ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বরাবর কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছেন। ট্রাম্পের অদূরদর্শিতার কারণে আমেরিকায় বিশাল সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত। মৃত্যু হয়েছে বহু মানুষের। এর আগে ট্রাম্পের ছেলের বান্ধবী করোনা ভাইরাস ধরা পড়েছিল। সে সময়ে উদ্বেগ ছড়িয়েছিল হোয়াইট হাউসে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।