করোনা জিতলেও ফিরলেন না, দৌড় শেষ মিলখা সিংয়ের

ফোর্থ পিলার

জীবনের দৌড়ে শেষপর্যন্ত জিতে আসতে পারলেন না। করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন গত মাসে। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন। কিন্তু আরও একাধিক সমস্যা শরীরে চলে আসে। চণ্ডীগড়ের হাসপাতালে মারা গেলেন ‘উড়ন্ত শিখ’ মিলখা সিং। শুক্রবার রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ এই প্রবাদপ্রতিম অ্যাথলেটিক মারা গেলেন।

তাঁর মৃত্যুতে শোকাহত ভারতীয় ক্রীড়ামহল। রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সহ বিশিষ্টরা শোকজ্ঞাপন করেছেন তার মৃত্যুতে। ৯১ বছর বয়স হয়েছিল মিলখা সিংয়ের। গত মাসের ২০ তারিখ করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হয়েছিলেন মিলখা সিং। তাকে প্রথমে বাড়িতে রেখে চিকিৎসা করা হচ্ছিল। কিন্তু শারীরিক সমস্যা বাড়তে থাকে। চণ্ডীগড়ের একটি হাসপাতালে তাকে ভর্তি করানো হয়। এর মধ্যে খবর আসে তা স্ত্রী নির্মল কউর করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হয়েছেন। তাকেও একই হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল।

মিলখা সিং দিন দশেকের মধ্যে করোনা ভাইরাস মুক্ত হয়েছিলেন। পরিবারের সদস্যদের অনুরোধ শুনে চিকিৎসকরা এই কিংবদন্তিকে বাড়ি যাওয়ার জন্য ছেড়ে দেন। দিন কয়েক সুস্থ ছিলেন বাড়ি ফিরে। তবে তার স্ত্রী আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। দিন চারেক পরে মিলখা সিংয়ের শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কমে আসতে থাকে। তিনি ফের হাসপাতালে ভর্তি হন। এবার সরাসরি আইসিইউতে তাকে রাখা হয়। সেখান থেকে আর ফিরে আসতে পারলেন না। ৩ জুন তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল।

দিন কয়েক আগে তার স্ত্রী নির্মলা কউর মারা গিয়েছেন। স্ত্রীর মৃত্যুর পাঁচ দিনের মাথায় মিলখা সিংও চলে গেলেন। শুক্রবার রাতে মিলখা সিংয়ের ছেলে জীব মিলখা মৃত্যুর খবর শুনিয়েছেন। রাতেই গোটা ভারতে এই কিংবদন্তীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে। অবিভক্ত ভারতবর্ষে বর্তমান পাকিস্তানে মিলখা সিং জন্মেছিলেন। দারিদ্র্যের সঙ্গে ছোট থেকে লড়াই করেছেন। দেশভাগের সময় তিনি পালিয়ে আসেন ভারতবর্ষে। বাবা-মা দেশভাগের সময় দাঙ্গাতে মারা গিয়েছিলেন।

অসম্ভব গতিশীল মিলখা এগিয়ে গিয়েছিলেন সকলের আগে। ভারতবর্ষের অন্যতম দৌড়বিদ হয়ে উঠলেন মিলখা সিং। ১৯৫৮ সালের কমনওয়েলথ গেমসে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন মিলখা সিং। ১৯৬০ সালের রোম অলিম্পিকে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন তিনি। সেখানে চতুর্থ স্থান দখল করেছিলেন। প্রথম না হওয়ার দুঃখ তিনি প্রকাশ করেছেন অনেক সময়ই। কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন সেই সময়। এশিয়ান গেমসে চারবার সোনা জয় করেছেন মিলখা। ১৯৫৯ সালে পদ্মশ্রী উপাধি দেওয়া হয়েছিল সরকারের পক্ষ থেকে। ভারতবর্ষের ‘উড়ন্ত শিখ’ না ফেরার দেশে চলে গেলেন। জীবনের ট্রাকে তিনি এবার প্রথম হতে পারলেন না।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।