কাঁকড়া ধরতে গিয়ে ফের সুন্দরবনে বাঘের হানায় মৃত্যু

ফোর্থ পিলার

ফের সুন্দরবনের খাঁড়িতে বাঘের হানায় মারা গেলেন এক ব্যক্তি৷ বুধবার সকালে গোসাবা ব্লকের পাখিরালয় জঙ্গলের ঘটনা। নদী খাঁড়ি এলাকায় মাছ ধরতে গিয়েছিলেন মৎস্যজীবী হরিপদ মণ্ডল (৩২)। জঙ্গল থেকে বাঘ বেরিয়ে তার উপর আক্রমণ করে। তাকে বনের ভিতর নিয়ে যাওয়া হয়। এই খবর লেখা পর্যন্ত তার কোনও সন্ধান মেলেনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কুমিরমারির লেনিন কলোনিপাড়ার বাসিন্দা হরিপদ মণ্ডল। বেশ কয়েক দিন যাবত সুন্দরবনের জঙ্গলের খাঁড়িতে মাছ-কাঁকড়া ধরতে যাচ্ছিলেন তিনি। বুধবার সকালেও সেই মতো বাড়ি থেকে বেরোন তিনি। প্রতিবেশী তিনজনের সঙ্গে একটি নৌকা নিয়ে মাছ, কাঁকড়া ধরতে খাঁড়িতে ঢুকেছিলেন। নির্দিষ্ট জায়গায় এসে জঙ্গলে নৌকা বাঁধা হয়। সঙ্গীদের সঙ্গে জাল পাতার কাজ করছিলেন হরিপদ। জঙ্গল থেকে একটি বাঘ বেরিয়ে আসে। নৌকার আড়াল থেকে ঝাঁপায় হরিপদ মণ্ডলের উপর। তাঁকে মুখে করে গভীর জঙ্গলে ঢুকে যায়।

সঙ্গীরা রীতিমতো ভয় পেয়ে যান ঘটনায়। নৌকা নিয় তারা গ্রামে ফিরে আসেন। পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়। বন দফতরেরর কর্মীদের কাছে খবর যায়। এরপর কর্মীরা তাকে খোঁজার জন্য বনের ভিতর গিয়েছিল। কিন্তু তার খোঁজ পাওয়া যায়নি। বাড়িতে কান্নার রোল ওঠে। তাকে যে আর পাওয়া যাবে না। পরিবার ও স্থানীয়রা এই কথা কার্যত বুঝতে পেরে গিয়েছেন। এলাকায় শোকের ছায়া বাঘের হামলার খবর আসার পর থেকে।

বাঘের হানার সুন্দরবন এলাকায় মৃত্যুর ঘটনা ক্রমে বাড়ছে। চলতি মাসেই এই নিয়ে পাঁচজন মারা গিয়েছেন। আনলক পর্যায় শুরুরু পর থেকেই বাঘের হানায় মৃত্যুর ঘটনা বেড়েছে। এলাকার বহু মানুষের কাজ নেই। কাঁকড়া ধরে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছে বহু পরিবার। সে কারণে সঙ্গীরা মিলে সুন্দরবনের নদীখাঁড়িতে যাচ্ছে লোকজন। বন দফতরের তরফ থেকে অভিযোগ, বেশিরভাগ লোকদের বনে ঢোকার কাগজপত্র নেই। তারা গভীর বনে চলে যাচ্ছেন। সেই কারণে বাঘের আক্রমণের মুখে পড়ছে।

ওয়াকিবহাল মহলের মত, মানুষের এই মুহূর্তে কাজের জায়গা কমে এসেছে। উপার্জন প্রায় নেই বললেই চলে। তার উপরে আম্ফান পরবর্তী সময়ে বহু মানুষ জীবিকাহীন হয়ে পড়েছে। তাই আরও বেশি করে চিংড়ি, কাঁকড়া ধরার জন্য সুন্দরবনের ভেতর মৎস্যজীবীরা যাচ্ছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।