কেরল ও কর্ণাটকে তাণ্ডব চালাচ্ছে ‘তওকতে’, ভাঙছে বাড়ি, গাছ

ফোর্থ পিলার

আরব সাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড় প্রবল শক্তি সঞ্চার করেছে। ‘তওকতে’ অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় হিসেবে তার ধ্বংসলীলা শুরু হয়ে গিয়েছে। রবিবার কর্ণাটক, গোয়া, কেরল এই তিন রাজ্যে প্রভাব পড়েছে। ইতিমধ্যেই কেরলে একাধিক বাড়ি ভেঙে পড়েছে প্রবল ঝড়বৃষ্টিতে। কর্ণাটক ও গোয়ার উপকূলে প্রাথমিক ধাক্কা দিয়েছে এই অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়। আগামী ১২ ঘন্টায় আরও প্রবল শক্তি সঞ্চয় করবে সে। মঙ্গলবার রাতের মধ্যে গুজরাটে আঘাত হানবে এই প্রবল ঘূর্ণিঝড়
‘তওকতে’।

মহারাষ্ট্র রাজ্যতেও প্রবল প্রভাব ফেলবে এটি। গতকাল থেকেই বৃষ্টির তেজ বাড়ছিল। কেরলে গভীর রাত থেকে ঝড়ের তাণ্ডব আরও বেড়েছে। কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন টুইট করেছিলেন এই প্রসঙ্গে। জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যেই ১৭ টি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে। ৫০০ পরিবারকে সেখানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে। প্রচুর গাছ ভেঙে পড়েছে রাস্তায়। সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকা প্রবল ক্ষতির সামনে। সমুদ্র রীতিমতো ফুঁসছে। ঘন কালো মেঘে ছেয়ে রয়েছে আকাশ।

দিল্লির মৌসম ভবন জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি ঘণ্টায় ১২ কিমি গতিবেগে এগোচ্ছে। আরও উত্তরে অগ্রসর হয়েছে সে। শনিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ গোয়া থেকে মাত্র ২২০ কিমি দূরে, মুম্বই থেকে ৫৯০ কিমি দূরে ও গুজরাটের উপকূল থেকে ৮২০ কিমি দূরে অবস্থান করেছে। জানানো হচ্ছে, মঙ্গলবার সন্ধে নাগাদ গুজরাটের পোরবন্দর ও নালিয়া মধ্যে দিয়ে এই ঝড় বয়ে যাবে। আছড়ে পড়বে এই ঘূর্ণিঝড়। মৌসম ভবন জানাচ্ছে, ১৫০ থেকে ১৬০ কিলোমিটার বেগে এই ঝড় আঘাত হানবে। সর্বোচ্চ গতিবেগ ১৮০ কিলোমিটার হতে পারে।

কর্নাটকে ঘূর্ণিঝড় প্রভাব ফেলেছে অনেকটাই। সেখানে লাল সর্তকতা জারি হয়েছিল। উপকূলবর্তী এলাকায় প্রবল ঝাপটা এসে পড়ছে। চারজনের প্রাথমিকভাবে মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। সেই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বহু এলাকা। বিদ্যুৎ নেই অনেক জায়গাতেই। বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কর্নাটক ও কেরলের বহু জায়গায়। কেরলের সাতটি জেলা জুড়ে লাল সর্তকতা জারি রয়েছে। কর্ণাটক উপকূলবর্তী এলাকা সম্পূর্ণ ফাঁকা করার কাজ চলছে। গোয়ায় সমুদ্র উত্তাল। এখানেও ঝড়ের প্রাথমিক ধাক্কা এসে পড়েছে। সাধারণ মানুষদের বাড়িতে নিরাপদে থাকার কথা জানানো হয়েছে।

তবে মূল ঝড় এখনও আসা বাকি। মৌসম ভবন জানিয়েছিল, রবিবার কর্ণাটক, কেরল, গোয়া উপকূলবর্তী এলাকায় ঝড়ের প্রভাব পড়বে। ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝড় হতে পারে। কিন্তু তখনও এই ঘূর্ণিঝড় অতি প্রবল আকার নেয়নি। গতকাল থেকে সে শক্তি সঞ্চয় করেছে। আগামী ১২ ঘন্টায় আরও শক্তি সঞ্চয় করবে। গুজরাট উপকূলে এই ঝড় সম্পূর্ণ আছড়ে পড়বে। ফলে লণ্ডভণ্ড হয়ে যাবে সমুদ্র তীরবর্তী এলাকা। পাঁচটি রাজ্যের বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। ঘন্টায় ১৬০ কিলোমিটার বেগে আঘাত হানতে পারে এই অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘তওকতে’।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।