কোরানে পা লেগেছে, এই কথায় ব্যক্তিকে গণপিটুনির পর জ্বালিয়ে দিল উন্মত্ত জনতা

ফোর্থ পিলার

মসজিদে নমাজ পড়ার পর কোরান শরিফে পা লেগে গিয়েছে। ধর্মের অবমাননা হয়েছে। এই কথা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। দুই ব্যক্তির সঙ্গে বচসায় জড়িয়েছিল বহু মানুষ। শেষপর্যন্ত বেঘোরে প্রাণ খোয়াতে হল এক ব্যক্তিকে। কার্যত ধর্মীয় হিংসার শিকার হল ওই ব্যক্তি। গণপিটুনির পর তাকে প্রকাশ্য রাস্তায় জ্বালিয়ে দেওয়া হল। পুলিশ কিছু করতে পারেনি। হাজার ছয়েক লোক সমবেত এই হিংসায় মদত দিয়েছে। বাংলাদেশের লালমনিরহাট জেলায় এই ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার এই ঘটনার ঘটেছে বলে খবর। প্রকাশ্য দিবালোকে এই ঘটনা আরও একবার ধর্মের হিংসাত্মক রূপ সামনে এনে দিল। এই ঘটনার ভিডিও পর্যন্ত হয়েছে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে ভাইরাল হয়। ঘটনাটি ঘটেছে লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম এলাকায়। দুই ব্যক্তি মসজিদে নমাজ পড়তে গিয়েছিলেন। নমাজ পড়ার পর কোথাও পা লেগে গিয়েছিল। তাই নিয়ে দুই ব্যক্তির সঙ্গে উপস্থিত অন্যান্যদের শুরু হয় বচসা। দাবানলের মতো খবর ছড়িয়ে পড়ে। লোকমুখে প্রচারিত হয়েছিল কোরান শরিফে পা দেওয়া হয়েছে। ধর্মের অবমাননা করেছে দুই ব্যক্তি। হিংসাত্মক রূপ নেয় এলাকা।

বেধড়ক মারধর শুরু করা হয় দুই ব্যক্তিকে। বহু মানুষ এসে জমা হয়েছিল উত্তেজিত হয়ে। পুলিশ ওই দুই ব্যক্তিকে উদ্ধারের জন্য আসে। কিন্তু সক্ষম হয়নি। ভিড়ের মধ্যে পুলিশকেও নিগৃহীত হতে হয়। এক ব্যক্তিকে তার মধ্যেও উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। অন্যজনকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। মারধরের পর প্রকাশ্য রাস্তায় তার শরীরে আগুন দেওয়া হয়। আগুনে পুড়ে রাস্তাতেই মারা গিয়েছেন ওই ব্যক্তি। ওই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। মনুষ্য প্রজাতির এই বিকৃত রূপ রীতিমতো ভয়ের সঞ্চার করেছে শিক্ষিত সমাজে।

মৃত ব্যক্তির পরিচয় সম্পর্কেও পুলিশ সন্দিহান।দেহ সম্পূর্ণ পুড়ে গিয়েছে। কাজেই তাকে চেনার অবস্থা পর্যন্ত নেই। এক ব্যক্তি জানিয়েছে মৃতদেহটি তার দাদার। রংপুরের বাসিন্দা তারা। একসময় ওই ব্যক্তি শিক্ষক ছিলেন। বেশ কিছু সময় হল তিনি অবসর নিয়েছেন কর্মক্ষেত্র থেকে। রংপুর থেকে কেন লালমনিরহাট তিনি এসেছিলেন? সে সম্পর্কে কোনও তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। পুলিশ মৃত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করার কাজ চালাচ্ছে। রংপুরের ওই পরিবারে রীতিমতো শোকের ছায়া। কি করে এমন নির্মম মৃত্যু হতে পারে! তাই নিয়ে সকলেই হতবাক।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রায় ছয় হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিল ওই ঘটনার সময়। বেধড়ক মারধর করা হয়। পুলিশ কিছুতেই ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করতে পারেনি। একসময় হিংসা আরও ভয়াবহ হয়। ওই ব্যক্তির শরীরে আগুন দেওয়া হয়। বাঁচার চেষ্টা তারপরও তিনি করেছিলেন। কিন্তু কোনওভাবেই ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। কিছু সময় পর সম্পূর্ণ অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যায় ওই ব্যক্তি।

সত্যিই কোরান শরিফে পা লেগেছিল? তাই নিয়েও যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে। লোকমুখে এই কথা প্রচার হচ্ছে। কিন্তু আদৌ কোরানে ওই ব্যক্তি পা দিয়েছিলেন কি! সে কথা সঠিকভাবে কেউ বলতে পারছে না। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। এলাকায় আতঙ্ক রয়েছে ঘটনায়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।