গঙ্গার চরে অর্ধ পোড়া, বালিতে পুঁতে রাখা লাশ, প্রয়াগসাগরে বিভীষিকা

ফোর্থ পিলার

গঙ্গা নদীর ধারে চরের উপর সার দিয়ে পড়ে রয়েছে মৃতদেহ। কোনওটি বালির নিচে অর্ধেক পোঁতা অবস্থানে রয়েছে। কোনওটি আবার অর্ধেক দাহ অবস্থায়। বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে এই ছবি ধরা পড়ছে প্রয়াগরাজ এলাকায়। আরও একবার উঠল উত্তর প্রদেশের নাম। মৃতদেহগুলি করোনা আক্রান্তদের কিনা? তাই নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছে। প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নজরদারির জন্য। দেহ উদ্ধার করে যাতে দ্রুত সৎকার করা যায়৷ সেই নির্দেশ দিয়েছে আদিত্যনাথ যোগী প্রশাসন।

শ্রীঙ্গভেরপুর ধামে প্রয়াগরাজ ছাড়াও প্রতাপগড়, সুলতানপুর, ফাইজাবাদ জেলায় কেউ প্রয়াত হলে তাঁর দেহ সৎকার করা হয়। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের আগে এই অঞ্চলে ৫০ থেকে ৬০ জনের দেহ সৎকার করা হত। এপ্রিল মাস থেকে সেই সংখ্যা বাড়তে থাকে। প্রায় একশোর কাছাকাছি ওই সংখ্যা পৌঁছে যায়। শ্মশান কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, দাহ করার জন্য পর্যাপ্ত কাঠ পাওয়া যাচ্ছে না অনেক দিন ধরেই। অন্য একটি অভিযোগও উঠছে। মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় শ্মশানে দাহ করার জন্য অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হচ্ছে। মৃতদের পরিবারের তরফ থেকে এই কথা বলা হচ্ছে।

বহু পরিবার সেই টাকা দিতে পারছে না। গঙ্গার চরে কি তাই মৃতদেহ পুঁতে দেওয়া হয়েছে? অনেক মৃতদেহ আবার অর্ধদগ্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে বালির উপরে। অসংখ্য মৃতদেহ নদীর চরে দেখতে পাওয়া গিয়েছে। বিভীষিকাময় পরিস্থিতি ওই এলাকায়। আতঙ্ক ছড়িয়েছে জনসাধারণের মধ্যে। করোনা আক্রান্তদের মৃতদেহ কি সেগুলি? এই প্রশ্ন উঠছে। কিন্তু উত্তর দেওয়ার মতো কোনও ব্যক্তি নেই এই বিষয়ে। প্রশাসনের নজর এড়িয়ে কি করে এই ঘটনা ঘটছে? প্রশ্ন উঠছে ওয়াকিবহাল মহলের।

জানা গিয়েছে ওই এলাকায় এক সময় জল কমে গিয়েছিল। এরপর জল আসতে থাকে আবার। তাহলে কি নদীর জলে বালি সরে যাওয়ায় মৃতদেহ বার হতে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। উত্তর প্রদেশ প্রশাসন জানিয়েছে অবিলম্বে এই সব দেহ উদ্ধার করে দাহ করতে হবে। এর আগে নদীতে মৃতদেহ ভাসিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উত্তরপ্রদেশ সরকারের বিরুদ্ধে।

উন্নাও, কনৌজ, কানপুর, রায়বরেলি প্রভৃতি অঞ্চলে গঙ্গায় লাশ ভাসিয়ে দেওয়ার ঘটনা দেখতে পাওয়া গিয়েছে। গঙ্গায় একের পর এক লাশ দেশে এসেছে। নদীর পাড়ে লাশ আটকে রয়েছে। নদীতে নেমে কুকুর সেই লাশের পাশে ঘুরছে। এই ভয়াবহ ভিডিও ইন্টারনেট মিডিয়াতে ভাইরাল পর্যন্ত হয়। কেন্দ্রীয় সরকার উত্তরপ্রদেশ সরকারের কাছে এই বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছিল।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।