চিকিৎসক, নার্স মিলিয়ে ৯৩ জন আক্রান্ত সাগর দত্ত হাসপাতালে

ফোর্থ পিলার

সাগর দত্ত হাসপাতালে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রচুর সংখ্যায় করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন। পরিস্থিতি ক্রমশ আয়ত্বের বাইরে চলে যাচ্ছে। উত্তর ২৪ পরগনায় এই হাসপাতালে করোনা রোগীদের চাপ যথেষ্ট বেশি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই হাসপাতালের রোগীরা আসছেন। অ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ করছে না অনেক রোগীর আত্মীয়রা। স্বাস্থ্য দফতরের সঙ্গেও কথা বলছে না। সোজাসুজি রোগীদের নিয়ে পৌঁছে যাচ্ছে হাসপাতালে।

চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী মিলিয়ে হাসপাতালের ৯৩ জন করোনা আক্রান্ত। মঙ্গলবার নতুন করে অনেক চিকিৎসকের শরীরে করোনার উপসর্গ দেখা দিয়েছে। হাসপাতালের সুপার চিকিৎসক সুজয় মিস্ত্রীর শরীরেও উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। এদিকে প্রতিদিন করোনা আক্রান্তদের ভিড় বাড়ছে কলেজ অফ মেডিসিন অ্যান্ড সাগর দত্ত হাসপাতালে। জরুরি বিভাগেও সার দিয়ে রোগী পড়ে আছেন। দু’জন সুস্থ হয়ে বেরোচ্ছেন। কম করে চারজন হাসপাতালে আসছেন একই সময়ে ভর্তি হতে।

সম্প্রতি এই হাসপাতালে অক্সিজেন পার্লার খোলা হয়েছিল। সেখানেও বহু রোগী এসে অক্সিজেন নিচ্ছেন প্রয়োজনমতো। হাসপাতাল চত্বরে এই মুহূর্তে কার্যত থিকথিকে ভিড়। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ আসছেন। তাদের অনেকেই করোনা ভাইরাস পজিটিভ। আবার অনেকে উপসর্গ নিয়ে আসছেন। এই হাসপাতালে আড়াইশো বেড রয়েছে। প্রত্যেকটি বেডে রোগীরা ভর্তি রয়েছেন। কোথাও এতটুকু ফাঁকা নেই। তার উপরে রোগীর আত্মীয়রা চাইছেন পেশেন্ট ভর্তি হোক। তাই নিয়ে সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

সম্প্রতি সাগর দত্ত হাসপাতালে বিনা চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে। অক্সিজেন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। এই কথা মৃতের পরিবারের তরফ থেকে জানানো হয়। অক্সিজেন পার্লারের সামনে বহু মানুষ ছড়িয়েছিটিয়ে রয়েছে। এক মহিলা মাটির মধ্যে শুয়ে রয়েছেন। অনেকে নাকে নল গুঁজে বসে রয়েছেন চেয়ারে। এই ভয়াবহ ছবি সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরায় উঠে এসেছিল। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, পরিস্থিতি ভয়াবহ। রোগীর চাপ অনেকটাই বেশি। করোনা ভাইরাসের প্রথম ঢেউটে এই হাসপাতালে ভালো চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়া গিয়েছে।

রোগীরা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। একথা প্রচারিত হয়ে গিয়েছিল। এবারে সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ অনেক বেশি ছড়িয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বহু অংশ থেকে এই হাসপাতালের রোগীরা আসছেন। বালি, বেলুড়, দক্ষিণেশ্বর অঞ্চল থেকে এখানে আসছে রোগীরা। বরানগর স্টেট জেনারেল হাসপাতাল, বলরাম হাসপাতাল, ব্যারাকপুর হাসপাতাল,বারাসত জেলা হাসপাতাল থাকলেও এই হাসপাতালে রোগীর চাপ অনেক বেশি। এমার্জেন্সিতে বহু মানুষ ভিড় করছেন। তাই হাসপাতাল চত্বরে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার প্রায় ১০০ শতাংশ সম্ভাবনা থাকছে। প্রতিদিন চিকিৎসক নার্স স্বাস্থ্যকর্মীরা এই কারণে আক্রান্ত হয়ে পড়ছেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।