চিকিৎসার টাকা জোগাড় করতে পারেনি, আত্মহত্যা বড় ছেলের

ফোর্থ পিলার

করোনা আক্রান্ত বাবার চিকিৎসার জন্য তিন লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। হাসপাতাল সেই বিল দেওয়ার জন্য তাগাদা শুরু করেছে। টেনেটুনে দেড় লক্ষ টাকা খরচ জোগাড় হয়েছিল। এই বাজারে বাকি টাকা যোগাড় করতে না পেরে আকাশ ভেঙে পড়ে বড় ছেলের মাথায়। তার মৃতদেহ কুয়ো থেকে উদ্ধার করা হল। বড় ছেলে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে এ জন্য কাঠগড়ায় তুলছে প্রতিবেশী ও পরিবারের সদস্যরা। মর্মান্তিক ঘটনা দুর্গাপুরের ১১ নম্বর ওয়ার্ডে। ২১ বছরের আকাশ কর কুঁয়োতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কুড়ুরিয়াডাঙার মিলনপল্লির বাসিন্দা তারা। পেশায় অটোচালক নিমাই করের শরীর খারাপ হয়। করোনা ভাইরাস টেস্ট হয়। দেখা যায় তিনি করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। শরীর অত্যন্ত খারাপ হয়ে পড়েছিল। দুর্গাপুরের এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। আইসিইউতে রেখে চিকিৎসা চলছিল।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তিন লক্ষ টাকা দাবি করেছে চিকিৎসার জন্য। নিমাইবাবুর বড় ছেলে আকাশ কর তখন থেকেই দুশ্চিন্তায় পড়ে। অত টাকা জোগাড় করার মতো সামর্থ্য তার পরিবারের নেই। আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের থেকে দেড় লক্ষ টাকা ব্যবস্থা করা হয়েছিল। বাকি টাকা জোগাড় করা সম্ভব হয়নি। হাসপাতালে তরফ থেকে টাকা চাওয়া হয়েছে বলে খবর। রবিবার সকাল থেকে আকাশকে এলাকায় দেখতে পাওয়া যায়নি। বাড়িতেও ছিল না সে। প্রতিবেশীরা খোঁজখবর নেন। কিন্তু তার খোঁজ পাওয়া যায়নি।

এরপর বাড়ির কুঁয়োর ধারে প্রতিবেশীর আসেন। কুঁয়োর ভেতর কাঁটা ফেলা হয়। কিছু সময় পরে ভেসে ওঠে আকাশ। তাকে উদ্ধার করা হয়। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন, অনেক আগেই সে মারা গিয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমেছে। পরিবারের সদস্যরা জানাচ্ছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ টাকা চাইছিল। যোগাড় করতে না পারার জন্য বড় ছেলে আত্মহত্যা করেছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ নিয়ে কোনও মন্তব্য করছে না।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।