চিনের আগ্রাসনের জবাব দিতে সীমান্তে ইগলা এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ভারতের

ফোর্থ পিলার

ইতিমধ্যে আকসাই চিন ও দৌলত বেগ ওল্ডির কাছে চিন সেনার গতিবিধি লক্ষ্য করা গিয়েছে। আর লাদাখের এমন দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে চিন সেনার নতুন করে অতিসক্রিয়তা ভাবাচ্ছে ভারতীয় সেনাকে। তাই নতুন করে প্রায় ৩০ হাজার সেনা পাঠিয়েছে ভারত। আর এবার চিন সীমান্তে নিরাপত্তা আরও মজবুত করতে ইগলা এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম মোতায়েন করল ভারতীয় সেনা। ফলে শত্রুপক্ষের যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার কিংবা স্পাই ড্রোনকে সহজেই খতম করতে পারবে ভারত।

সংবাদ সংস্থা এএনআই সূত্রে খবর, লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার গুরুত্বপূর্ণ কিছু জায়গায় রাশিয়ায় তৈরি ইগলা এস এয়ার ডিফেন্স মিসাইল সিস্টেম সহ সেনা মোতায়েন করেছে ভারত। ভারতের আকাশসীমায় কোনও চিনা বিমান ঢুকে পড়লে তাকে প্রতিহত করবে এই মিসাইল। ইগলা হল রাশিয়ার প্রযুক্তিতে তৈরি এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম। এই অস্ত্র কাঁধে নিয়েই চালাতে পারেন জওয়ানরা।

ভারতীয় সেনা ও বায়ুসেনা এই এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ব্যবহার করে। সেনাঘাঁটির কাছাকাছি শত্রুপক্ষের হেলিকপ্টার বা যুদ্ধবিমান চলে এলে খুব তাড়াতাড়ি প্রতিপক্ষকে ঠেকাতে ইগলা ব্যবহার করেন সেনারা। এই সিস্টেম কাঁধে নিয়েই নিখুঁতভাবে লক্ষ্যভেদ করা যায়। ধ্বংস করা যায় প্রতিপক্ষের ফাইটার জেট বা কপ্টারকে। স্থলপথে আসা শত্রুদেশের সেনার উপর হামলা চালানো যায়। তেমনই ভূমি থেকে আকাশেও মিসাইল ছোঁড়া যায়।

এছাড়া এর আরেকটি সুবিধা হল, জওয়ানরা কাঁধে করেই বয়ে নিয়ে যেতে পারেন এই এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম। ১৯৮১ সাল থেকে রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে রয়েছে ইগলা এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম। আসলে ইগলা – এস মিসাইল অনেকটাই উন্নত। এমনকি রাতের অন্ধকারেও শত্রুপক্ষের উপরে হামলা চালানো যায়।

প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই ভারতের চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ বিপিন রাওয়াত বলেন, ” আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান না হলে সেনা অভিযানের পথ খোলা আছে। ” এই বক্তব্য থেকেই সীমান্তে চিনের চোখরাঙানি সহ্য করবে না ভারত। বলপ্রয়োগের জন্য সবরকম প্রস্তুতিও সেরে ফেলেছে সেনা। টি-৯০ ভীষ্ম ট্যাংক মোতায়েন করা হয়েছে। আকাশপথে নজরদারি চালাচ্ছে মিগ্ – ২৯ বাইসন , সুখই – ৩০ এমকেআই , মিরাজ ২০০০ এর মতো যুদ্ধবিমা। শত্রুপক্ষের যে কোনও আক্রমণের মোকাবিলা করতে প্রস্তুত রয়েছে রাফালও। সব মিলিয়ে চিনের আগ্রাসন ঠেকাতে প্রস্তুত ভারত।

চিনের মধ্যে সীমান্ত বিবাদ যেন কিছুতেই মিটতে চাইছে না। চিনের মুখের কথা এবং কাজের মিল থাকছে না। তাই সীমান্ত সমস্যা সমাধানের জন্য একদিকে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। তখন সীমান্তে দেখা যাচ্ছে চিন সেনার সংখ্যা এবং সক্রিয়তা দুইই বাড়ছে। কিছুদিন আগেই উপগ্রহ চিত্রে ধরা পড়েছিল যে মানস সরোবর , কৈলাশের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করছে চিন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।