টাকার নেশায় অপরাধ জগতে, স্পোর্টসম্যান থেকে গ্যাংস্টার জয়পাল

ফোর্থ পিলার

রাজারহাটের ২০১ নম্বর ফ্ল্যাটে ছড়িয়েছিটিয়ে আছে রক্তের দাগ। মেঝে ভেসে গিয়েছে রক্তে। দুটি লাশ রাত পর্যন্ত ওই ঘরে পড়েছিল। পঞ্জাবের দুই কুখ্যাত গ্যাংস্টার এনকাউন্টারে মারা যায় বুধবার। আবাসনের ভিতর গুলির যুদ্ধ শুরু হয়েছিল দুপুরের পর থেকেই। এসটিএফের ইন্সপেক্টর কার্তিক মোহন ঘোষ গুলিতে জখম হয়েছেন। গ্যাংস্টার জয়পাল সিং ভুল্লার পঞ্জাবের এক পুলিশ ইন্সপেক্টরের পুত্র ছিল। বেশি টাকার লোভ চেপে বসেছিল তার উপর। সেখান থেকেই গ্যাংস্টার হয়ে যাওয়া। প্রায় ৫০ টির কাছাকাছি মামলা আছে তার বিরুদ্ধে।

পঞ্জাবের মোস্ট ওয়ান্টেড গ্যাংস্টার জয়পাল ভুল্লার। তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী জশপ্রীত সিং ওরফে জসসি খারার। দুই এএসআইকে খুনের পর থেকে জয়পাল ভুল্লারকে খুঁজছিল পঞ্জাব পুলিশ। তারা পঞ্জাব থেকে পালিয়ে কলকাতা চলে এসেছিল। একাধিক অভিযোগ আছে জয়পাল সিং ভুল্লার নামে। খুন, ডাকাতি, অপহরণ সব কিছুতেই সিদ্ধহস্ত। পঞ্জাব ছাড়াও হরিয়ানা, রাজস্থান ও হিমাচলপ্রদেশে খুন, অপহরণ, ডাকাতি ও তোলাবাজির মামলা আছে।
  
অবসরপ্রাপ্ত অ্যাসিসট্যান্ট সাব ইনস্পেক্টরের ছেলে জয়পাল। ২০০৩ সালে লুধিয়ানায় পঞ্জাব সরকারের স্পোর্টস ট্রেনিং সেন্টার স্পিড ফান্ড অ্যাকাডেমির ছাত্র ছিল জয়পাল। হ্যামার থ্রোয়ার ছিল সে। সেখানে তাঁর সঙ্গে আলাপ আমনদীপ সিং ওরফে হ্যাপির। সে বডি বিল্ডিং করত। হ্যাপির বাবাও ছিল সাব ইন্সপেক্টর। পরের বছর
জুলাইয়ে হ্যাপি ও জয়পাল মিলে নিকটাত্মীয়র ছেলে চিরাগকে অপহরণের ছক কষে। তাড়াতাড়ি বড়লোক হতে চেয়েছিল তারা। ধরা পড়ে তারা। লুধিয়ানার জেল হয় ঠিকানা।

জেলে রাজীব ওরফে রাজার সঙ্গে আলাপ হয় জয়পালের। গয়নার দোকানে লুঠ ও খুনের অভিযোগে গ্রেফতার রাজা। জেল থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে রাজার সঙ্গে দেখা হয় জয়পালের। শুরু হয়ে যায় অপরাধের কার্যক্রম। ২০০৯ সালের শুরুতে হোসিয়ারপুরের কারখানা থেকে বন্দুক লুঠ করে তারা। পঞ্চকুল্লা ও মোহালিতে ব্যাঙ্ক ডাকাতি, চণ্ডীগড়ের ব্যবসায়ী এবং বিজেপি নেতাকে লুঠ ও হাইওয়ে থেকে গাড়ি ছিনতাই করে। হরিয়ানায় গ্যাং চালাত রাজা। পঞ্জাবে গ্যাংস্টার হয়ে ওঠে জয়পাল।

ওই বছর জুনে পুলিশ রাজা ও জয়পালকে গ্রেফতার করে। পঞ্জাব, হরিয়ানা ও দিল্লির ২৭টি থানায় মামলা ছিল তাদের। আদালতে তোলা হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রমাণ ছিল না। লোকজন মুখ খোলেনি। জামিন পেয়ে যায় তারা। ২০১৬ সাল থেকে পালাচ্ছিল জয়পাল। ২০১৭ সালে এক্সিস ব্যাঙ্কের টাকার গাড়ি লুট করে সে। ১.৩৩ কোটি টাকা লুঠ হয় সেবার। পাকিস্তান থেকে এদেশে মাদক পাচার করতে শুরু করেছিল তারা। জয়পাল দুর্বল হয়ে পড়ে। এর মধ্যেই দুই এএসআইকে গুলি করে খুন করে জয়পাল। পঞ্জাব পুলিশ তার মাথার দাম ১০ লক্ষ টাকা ঘোষণা করেছিল। সহযোগী জশপ্রীতের মাথার দাম ছিল ৫ লক্ষ টাকা। তারা কলকাতায় এসে গা ঢাকা দিয়েছিল।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।