ঠান্ডা পানীয়ে মাদক, কুয়োতে ফেলে মৃত্যু নিশ্চিত, মাটিতে চার জনকে পুঁতে দেওয়া হয়

ফোর্থ পিলার

কালিয়াচকে পরিবারের চার সদস্যের খুনের ঘটনায় রহস্যের জাল বহুদূর বিস্তৃত। পুলিশ জেরা করছে দুই ভাইকে। খুনের কারণ সম্পর্কে শনিবার বিকেল পর্যন্ত পরিষ্কার কোনও ছবি ধরা পড়েনি। মৃতদেহগুলি গুদাম ঘর থেকে উদ্ধার হয়। মাটিতে পুঁতে রাখা হয়েছিল চার সদস্যকে। ১৯ বছরের এক তরুণ একা খুন করেছে চারজনকে? এই ঘটনাতেও রয়েছে যথেষ্ট প্রশ্ন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অভিযুক্ত আসিফ মহম্মদ কোনওভাবেই কারও সঙ্গে মেলামেশা করত না। তার গতিবিধিও অত্যন্ত সন্দেহজনক। পুলিশ প্রাথমিক জেরা করেছে তাকে। জেরায় আসিফ জানিয়েছে, খুন করার পরিকল্পনা করেছিল। সে কারণে ঠান্ডা পানীয়ের মধ্যে মাদক মিশিয়ে দেওয়া হয়। মা- বাবা, বোন ও ঠাকুমা মাদক মিশ্রিত সেই ঠান্ডা পানীয় খায়। ওই পানীয় খেয়ে তারা সংজ্ঞাহীন হয়েছিল। এরপর চারজনকে কুয়োর মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়। মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।

এরপর একে একে মৃতদেহগুলোকে জল থেকে তুলে গুদামঘরে নিয়ে আসা হয়েছিল। বাসিন্দারা জানান, কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না পরিবারের সদস্যদের গত চার মাস ধরে। বাড়িতেই এই মারাত্মক ঘটনা চলছে! সে সম্পর্কে কোনও ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। মূল বাড়ির অংশ থেকে একটু দূরে ওই গুদাম ঘর। সেখানে পৌঁছানোর জন্য একটি সুড়ঙ্গ পর্যন্ত খোড়া হয়েছিল। গুদামঘরে একটিই দরজা। অন্য কোনও দরজা নেই। সেটি বাইরে থেকে বন্ধ ছিল। কাজেই প্রতিবেশীরা সেই গুদামঘর খোলাবন্ধ করার বিষয়টিও দেখতে পায়নি।

সুড়ঙ্গের মধ্যে দিয়ে মৃতদেহ ওই গুদাম ঘরের ভিতরে নিয়ে আসা হয়। তারপর মৃতদেহগুলি মাটিতে পুঁতে রাখা হয়েছিল। বাড়ির মধ্যে থেকে একাধিক মোবাইল ফোন, ইলেকট্রনিক গ্যাজেট, ল্যাপটপ পাওয়া গিয়েছে। এছাড়াও এক লক্ষ টাকা নগদ পাওয়া গিয়েছে বাড়ির মধ্যে। শোনা গিয়েছে, ওই বাড়ি বিক্রি করার পরিকল্পনা করছিল আসিফ। সে কথা স্থানীয়রা জানতে পারে। আসিফের বড় ভাই আরিফ ওই বাড়িতে থাকে না। প্রতিবেশীরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করে। আরিফ বাড়িতে এসেছিল শুক্রবার। ছোট ভাই তাকে কোনও কথা বলতে চায়নি। বড় ভাইকেও মারার চেষ্টা হয়।

আরিফ থানায় গিয়ে বিষয়টি জানায়। এরপর এই রহস্যের জাল খুলতে থাকে। আসিফকে পাকড়াও করা হয়েছিল। আসিফ স্বীকার করে চারজনকে সে খুন করেছে। গুদামঘরে মৃতদেহ রাখা হয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মৃতদেহগুলি তোলা হয়। দীর্ঘ সময় মৃতদেহ মাটিতে পোঁতা রয়েছে। কিন্তু কত মাস আগে তাদের খুন করা হয়েছে? সেই তথ্য পুলিশ দিতে পারছে না। মালদহ মেডিক্যাল কলেজে ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহ পাঠানো হয়েছে। সেই রিপোর্ট এলে খুনের যথার্থ কারণ ও প্রক্রিয়া জানা যাবে। দুই-ভাইকে পুলিশ জেরা করছে। কেন এই নৃশংস ঘটনা ঘটালো ছোট ছেলে? পুলিশ সেই সম্পর্কে শনিবার সন্ধ্যাবেলাতও অন্ধকারে রয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।