তিন দিনে একলক্ষ করোনা আক্রান্তের হদিশ দেশে

ফোর্থ পিলার

মাত্র তিনদিন সময় লেগেছে এক লক্ষ করোনা ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে। এই পরিসংখ্যান রীতিমতো উদ্বেগ ছড়াচ্ছে ওয়াকিবহাল মহলে। এর আগে ছয় থেকে সাত লক্ষ পেরোতে সময় লেগেছিল ৫ দিন। এবারে ৮ লক্ষের গণ্ডি পেরলো তিনদিন সময়ে। যথেষ্ট উদ্বেগ তৈরি করছে এই তথ্য। গত ২৪ ঘন্টায় আক্রান্তের সংখ্যা ২৭ হাজার পেরিয়েছে। অর্থাৎ করোনা ভাইরাস তার প্রভাব বিস্তার করেছে।

তথ্য জানানো হচ্ছে, দেশের ৮ শতাংশ আক্রান্তদের মধ্যে ৩৯ শতাংশ মারা গেলেন। এই জনসংখ্যা ৬০ থেকে ৭৪ বছর বয়সীদের মধ্যে হয়েছে। ৭৫ বছরের বেশি বয়সী আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুর হার ১৪ শতাংশ। ১৫ থেকে ৪৪ বছর বয়সীদের মধ্যে মৃত্যুর হার ১৫ শতাংশ। দেশে এই মুহূর্তে মৃত্যুর হার ২.৮৩ শতাংশ। সেই হার আরও কমানোর চেষ্টায় চিকিৎসকরা।

দেশে সুস্থ হয়ে ওঠার হার ৬২.৪২ শতাংশ। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন জানিয়েছেন, সুস্থ হয়ে ওঠার হার যথেষ্ট ভালো। আগামী দিনে আরও মানুষ সুস্থ হয়ে উঠবেন। চিকিৎসকরা মৃত্যু হার কমানোর চেষ্টা করছেন প্রতিদিন। মৃত্যুর হারে অষ্টম স্থানে এই মুহূর্তে রয়েছে ভারতবর্ষ। এদেশে করোনা ভাইরাসে মৃত্যুর হার ২. ৭২ শতাংশ। আরও বেশি সুস্থ হওয়ার প্রবণতা তৈরি হলে মৃত্যুহার কমে যাবে অনেকটাই।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানাচ্ছে সংক্রণের হার কিছুটা কমলে গাণিতিক অঙ্ক মেলার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যাবে। জুলাইতে দেশে আক্রান্তের সংখ্যা ১০ লক্ষ পেরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে গাণিতিক নিয়মে। তবে ওয়াকিবহাল মহল বলছে সেই সংখ্যা ১২ লক্ষ ছুঁতে পারে পরিস্থিতি বুঝে। এই মুহূর্তে প্রতিদিন প্রায় দুই লক্ষ করোনা টেস্ট হচ্ছে। যত বেশি টেস্ট হবে রোগীদের চিহ্নিত করে চিকিৎসার ব্যবস্থা তত সম্ভব হবে।

আক্রান্তের বিচারে এই মুহূর্তে গোটা বিশ্বে ভারত তৃতীয় স্থানে রয়েছে তালিকায় প্রথম স্থানে আমেরিকা দ্বিতীয় স্থানে ব্রাজিল তথ্য বলছে মৃত্যুর হিসেবে তালিকায় এই মুহূর্তে ভারত 8 নম্বরে রয়েছে মহারাষ্ট্র তামিলনাড়ু দিল্লি গুজরাট উত্তরপ্রদেশ এই পাঁচ রাজ্যের আক্রান্তের সংখ্যা মাত্র ছাড়া দেশের মোট আক্রান্তের প্রায় 80% এই পাঁচ রাজ্যের অবস্থান করছে

দেশের ৪০ টির বেশি জেলা করোনা ভাইরাস আক্রান্ত অনেকটাই বেশি। সেই সংখ্যা কমাতে পারলে আগামী দিনে ভারতে করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। ইতিমধ্যেই মুম্বইয়ের ধারাবি বস্তিতে আক্রান্তের সংখ্যা কমানো সম্ভব হয়েছে। এশিয়ার সবথেকে বড় বস্তি হল ধারাবি। দেশের লোকাল ট্রান্সমিশন শুরু হয়নি। এই কথা জানাচ্ছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।