দিঘার পাড়ে ভাঙছে বড় বড় ঢেউ, উত্তাল সমুদ্র

ফোর্থ পিলার

পূর্ব মেদিনীপুরের সমুদ্র উপকূল এই মুহূর্তে রীতিমতো অশান্ত। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে শুক্রবার রাত থেকেই সেখানে সরিয়ে ফেলা হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। যারা সমুদ্র উপকূলে দোকান ঘর সাজিয়ে ব্যবসা করেন তাদেরকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার বিকেল থেকে যে বৃষ্টি শুরু হয়েছে তার পরিমাণ বেড়েছে শনিবার।

এদিন দুপুর থেকে আরও তেজ বাড়তে থাকে বৃষ্টির। সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া। সমুদ্র উপকূলে হাওয়ার গতিবেগ এই মুহূর্তে ঘণ্টায় ৭০ কিলোমিটারের বেশি। একের পর এক ঢেউ ভেঙে পড়ছে নিউ দিঘার সমুদ্র উপকূলে। কোনও মানুষকেই ধারেকাছে ঘেঁসতে দেওয়া হচ্ছে না। পর্যটকদের হোটেলের ঘরে থাকতে নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। গতকাল থেকে চলছে মাইকিং। আজও দিনভর সেই মাইকিং চলেছে।

শুক্রবার সমুদ্রের কাছের রাস্তায় কিছু সাধারণ মানুষকে দেখতে পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু শনিবার সকালের সমুদ্রের ভয়াল রূপ দেখে আর খুব একটা বেশি কেউ সাহস পায়নি। এদিন সকাল থেকেই দিঘা, মন্দারমনি, তাজপুর, শংকরপুর উপকূলের বিস্তীর্ণ সমুদ্রতটে ঢেউ এসে ভেঙেছে। গোটা সমুদ্রতট সম্পূর্ণ ফাঁকা। একের পর এক ঢেউ ভেঙে পড়েছে পুরনো দিঘার রাস্তায়।

প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, মোহনায় যে সকল ট্রলার এসে নোঙর করেছে সেগুলিকে অত্যন্ত ভালোভাবে বেঁধে ফেলা হয়েছে। বড় নৌকাগুলিকে মাঝিরা তুলে নিয়ে গিয়েছে নিরাপদ স্থানে। এখনও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না সব ট্রলার নিরাপদে ফিরে এসেছে কিনা বঙ্গোপসাগর থেকে। গোটা এলাকাজুড়ে কালোমেঘ ছেয়ে আছে। সমুদ্রের গর্জন রীতিমতো অনেক দূরের হোটেলের ঘর থেকে শোনা যাচ্ছে।

পর্যটকরা প্রথমদিকে উৎসাহিত হয়েছিলেন। কিন্তু পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অনেকেই ফিরে গিয়েছেন তাদের বাড়ি। নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে অনেক স্থানীয়কে। খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। দু’হাজার সাধারণ মানুষকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে নিরাপদ স্থানে। সাগরদ্বীপে ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়লেও তার প্রভাব পূর্ব মেদিনীপুরের উপকূলে ভালোই দেখা যাবে।অতি ভারী বৃষ্টি হবে ঘূর্ণিঝড় আসার সময়ে। যে কোনও দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্যই সম্পূর্ণ নিরাপত্তা বলয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছে উপকূলীয় এলাকা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।