দিঘার সমুদ্রে ১৬ ফুট জলোচ্ছ্বাস হতে পারে, ভরা কোটালে আতঙ্ক

ফোর্থ পিলার

আজ শুক্রবার অমাবস্যার ভরা কোটাল। তার জেরে আরও একবার ঢুকতে পারে জল। সমুদ্র ও নদীর জল পাড় ছাপিয়ে আশেপাশের এলাকা ভাসিয়ে দিতে পারে। এই আশঙ্কা আরও বেশি নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে। গতকাল থেকেই দিঘার সমুদ্র ফুঁসতে শুরু করেছে। নদীগুলিতে জলস্তর ক্রমশ বাড়ছে। সিভিআর সাইক্লোন ইয়াসের স্মৃতি টাটকা।

পূর্ব মেদিনীপুর উপকূলবর্তী অঞ্চল সম্পূর্ণ ধ্বংসাবশেষে পরিণত হয়েছে। দক্ষিণ ও উত্তর ২৪ পরগনার নদীবাঁধ অঞ্চল অনেকটাই মিশে গিয়েছে মাটির সঙ্গে। এখনও বিস্তীর্ণ এলাকা নোনা জলের তলায় রয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার। তার মধ্যেই এই ভরা কোটাল আসছে। বিপদ আসন্ন। একথা আগেই নবান্ন থেকে ঘোষণা করা হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উদ্বিগ্ন পরিস্থিতি নিয়ে।

আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, আজ থেকে আগামী তিন দিন ভারী বৃষ্টি হবে দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে। তার সঙ্গে থাকবে সমুদ্র ও নদী সংলগ্ন অঞ্চলে জলোচ্ছ্বাস। ফলে পরিস্থিতি আরও উদ্বিগ্নতার জায়গায় পৌঁছাবে। জানানো হয়েছে, সমুদ্রে জলোচ্ছ্বাসের উচ্চতা ১৬ ফুটের উপর উঠবে। কলকাতায় জলের উচ্চতা বাড়বে ১৭.০৬ ফুটের উপর। এই বিষয়টি ক্রমশ দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে। লকগেট বন্ধ রাখা হবে কলকাতায়। কিন্তু তারপরেও উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতার একাধিক জায়গায় ভেসে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

দিঘা – শঙ্করপুর সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল সমুদ্রের তাণ্ডবে। গতকাল থেকে সমুদ্র আবার ফুঁসতে শুরু করেছে। উপকূলে এসে ঢেউ আছড়ে পড়ছে। শুধু তাই নয়, কূল ছাপিয়ে মাঝেমধ্যে জল চলে আসছে ভগ্নাবশেষ জায়গাগুলিতে। আজ ফের দিঘাতে প্রবল জলোচ্ছ্বাস হবে। আগে একথা ঘোষণা করা হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার নদীকেন্দ্রিক অঞ্চলগুলোতেও পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে। মাতলা, রায়মঙ্গল, বিদ্যাধরী সহ একাধিক নদী ফুঁসে উঠেছে।

ওইসব এলাকা মে মাসের ২৬ তারিখ থেকে প্লাবিত হয়ে রয়েছে। সেইসব জল এখনও নামেনি। তার মধ্যে আবার সমুদ্রের জল ঢুকবে এলাকায়। এই আশঙ্কা নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে। সাধারণ মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে আগেই। ত্রাণশিবিরে থাকছেন তারা। যে কোনওভাবে ভরা কোটাল সামাল দিতে হবে। এ কথা বলা হচ্ছে নবান্ন থেকে। দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে ভারী বৃষ্টি হবে আজ থেকে। নবান্নের বক্তব্য, ভারী বৃষ্টি এখন আর খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। নদী ও সমুদ্রের জলোচ্ছ্বাস বেশি করে দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে। জেলা প্রশাসনকে এলার্ট থাকতে বলা হয়েছে। নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রীও নজরদারি চালাচ্ছে। গোটা দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে ভারী বৃষ্টি শুরু হবে আজ থেকে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।