দিল্লি দাঙ্গায় ১০ দিন পুলিশ হেফাজতে উমর খলিদ

ফোর্থ পিলার

দিল্লি দাঙ্গার ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া উমর খলিদের ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন যাতে কোনওরকম শারীরিক সমস্যা না হয়, সেদিকে নজর রাখতে বলা হয়েছে। নিরাপত্তায় যেন কোনওরকম খামতি না থাকে। সেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পুলিশকে। রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন জেএনইউর এই প্রাক্তন ছাত্র। চার্জশিট তৈরি করা হয়েছে এই ঘটনায়।

দিল্লির দাঙ্গার ঘটনায় ৫৩ জন মারা গিয়েছিলেন। তদন্তে উমর খলিদের নাম আসে। তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার দশদিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে করকরডুমা জেলা আদালত। ৪ জানুয়ারি দিল্লির শাহিনবাগ গিয়েছিলেন উমর। আপের কাউন্সিলর তাহির হোসেন এবং আন্দোলনকারী খলিদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন তিনি। সেখানেই দাঙ্গার ব্লু প্রিন্ট তৈরি হয়েছিল বলে পুলিশ প্রশাসন জানাচ্ছে।

দিল্লি দাঙ্গার মূল মামলায় চলতি মাসের ১৭ তারিখ চার্জশিট পেশ হতে পারে। দুশো পাতার এই চার্জশিট তৈরি হয়েছে। জেএনইউ ও জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু পড়ুয়াদের নাম থাকতে পারে। একথা মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই জামিয়ার কমিটি ও পিঞ্জরা তোড়ের কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, উমরের মোবাইল ফোন থেকে ৪০ জিবি ডেটা সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রত্যক্ষ যোগ রয়েছে উমরের।

এর আগেও উমরের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার অভিযোগ এসেছিল। ২০১৬ সালে তাকে গ্রেফতার করা হয়। কানাইয়া কুমারের সঙ্গে দেশবিরোধী বক্তব্য রাখার অভিযোগ উঠেছিল। তবে বেশিদিন তাদের গ্রেফতার করে রাখা যায়নি। রাজনৈতিক চাপে তাদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় প্রশাসন। এবারে কি ঘটনা ঘটতে চলেছে, এখন দেখার বিষয়।

এই গ্রেফতারের ঘটনায় রীতিমতো রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার দমন-পীড়ন নীতি শুরু করেছে। বাম সংগঠনগুলি এই বক্তব্য রেখেছে। মিথ্যা মামলায় তাকে ফাঁসানো হল। এই দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনার প্রতিবাদ করেছেন। ফ্যাসিবাদ শক্তি ভারতকে নিয়ন্ত্রণ করছে। এই দাবি উঠতে শুরু করেছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।