দু’দিনের কোটালে ফের প্লাবনের আশঙ্কা, ১৭৫ টি ব্লক বিপজ্জনক

ফোর্থ পিলার

কয়েক দিনের মধ্যেই ভরা কোটাল। আবার সমুদ্রের জল উপকূলবর্তী এলাকা ভাসিয়ে দেবে। এই আশঙ্কা করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যথেষ্ট দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। আগাম সব ধরনের সর্তকতা নেওয়ার কথা তিনি বলছেন। কিন্তু প্রকৃতির এই অবস্থানকে ঠেকানো সম্ভব নয়। একথাও তিনি জানাচ্ছেন। কাজেই পরিস্থিতির মধ্যে থেকে সামাল দিতে হবে। এই বার্তাই দেওয়া হচ্ছে নবান্ন থেকে।

সিভিআর সাইক্লোন ইয়াসের পরে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ অঞ্চল জলের তলায়। পূর্ব মেদিনীপুরের একাধিক অঞ্চল সমুদ্রের জলে ভেসে গিয়েছে। ২৬ মে দুর্যোগ এসেছিল রাজ্যে। এখনও বিস্তীর্ণ এলাকায় জল দাঁড়িয়ে রয়েছে। নবান্ন জানাচ্ছে, ১৪ টি ব্লকের ৬৩ টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা সম্পূর্ণ জলমগ্ন। বহু কৃষিজমিতে নোনাজল দাঁড়িয়ে রয়েছে। এর মধ্যেই আবার ভরা কোটাল রয়েছে। ১১ ও ২৬ জুন এখন ভরা কোটাল আসবে। কি পরিস্থিতি হবে? তাই নিয়ে যথেষ্ট দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী জানাচ্ছেন, ইয়াসের মতো জলোচ্ছ্বাস হতে পারে ভরা কোটালে। কাজেই আবার এলাকাগুলি ডুবে যাবে। ১৭৫ টি ব্লককে বিপজ্জনক ঘোষণা করা হয়েছে ইতিমধ্যেই। দুর্যোগের মোকাবিলার জন্য কুইক রেসপন্স টিম পাঠানো হচ্ছে এলাকায়। দূর্গত মানুষদের ত্রাণ শিবিরে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ মুখ্যমন্ত্রী দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ৩১৭ টি বাঁধ ভেঙেছে এবার। ১০ জুনের মধ্যে ৫০ শতাংশ বাঁধের মেরামতি সম্ভব হবে। ২৩ জুনের মধ্যে বাকি অংশ মেরামতি করে ফেলার কাজ হবে।

তার মধ্যেই আবার ভরা কোটাল আসছে। সেচ দফতর থেকে ব্যবস্থা নিক। এই কথা বলছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাগর ও মৌসুনি দ্বীপ চূড়ান্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই দুই দ্বীপের ২০ হাজার মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কোটালের জল কতটা আঘাত হানবে? জানা নেই। স্থায়ী সমাধান খোঁজার চেষ্টা চালাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। এজন্য বিশেষ দল তৈরি হয়ে গিয়েছে। আগামী দুদিন যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে কাজ হবে। ভরা কোটাল সামলানো এখন গুরুদায়িত্ব নবান্নের।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।