‘দুর্গাপুজো আবার ঘরে বসে হয় নাকি?’ পুজো উদ্বোধনে বললেন মুখ্যমন্ত্রী

ফোর্থ পিলার

কলকাতা হাইকোর্ট দুর্গাপুজো নিয়ে রাজ্য সরকারকে ভর্ৎসনা করেছে। আগামী কাল রাজ্য সরকারের তরফ থেকে কলকাতা হাইকোর্টে এই বিষয়ে বক্তব্য দিতে হবে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর সিদ্ধান্তে অনড়। তিনি আজও নবান্ন থেকে ভার্চুয়ালি দুর্গাপুজোর উদ্বোধন করেছেন। বরং মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন করেছেন, “দুর্গাপুজো আবার ঘরে বসে হয় নাকি?”

করোনা আবহে দুর্গাপুজো কতটা সম্ভব? এই নিয়ে তীব্র আলোচনা চলছে। রাজ্য সরকার সঠিক ভূমিকা গ্রহণ করছে না। বিভিন্ন মহল থেকেই মত উঠে আসছে। করোনা ভাইরাস আরও বেশি মাত্রায় নভেম্বরে ছড়িয়ে পড়বে। এ কথা মনে করা হচ্ছে। ৫০ হাজার টাকা করে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে অনুদান দেওয়া হয়েছে ক্লাবগুলোকে দুর্গাপূজা করার জন্য। সে নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এই সমস্ত বিষয়কে সামনে রেখে হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার প্রথম শুনানি ছিল। বিচারপতি সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় রীতিমতো রাজ্য সরকারের একাধিক বিষয়কে প্রশ্নের মুখে ফেলেছেন।

মুখ্যমন্ত্রী তার মনোভাবে অনড়। বৃহস্পতিবার নবান্ন থেকে তিনি ১১০ টি পুজোর উদ্বোধন করেছেন। আরও পুজোর উদ্বোধন বাকি রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তার নিজের বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, “মা দুর্গার পুজো আমরা বন্ধ করিনি। পুজো বন্ধ করা ঠিক নয়। তাছাড়া কোনও কিছুই তো বন্ধ হয়নি। রমজান-ইদ-গণেশপুজো এগুলো ঘরে বসে করা যায়। কিন্তু দুর্গাপুজো মানে মায়ের বিরাট সংসার। সে পুজো বারোয়ারি। পুজো করে সব ক্লাব-কমিটি। বাড়ির পুজো খুব কম হয়।”

মুখে মাস্ক ব্যবহার করতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সামাজিক দূরত্ববিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন আজও স্যানিটাইজেশন যাতে ঠিকমতো করা হয়, সেই বার্তা রাখা হচ্ছে। কাজেই রাজ্য সরকার কিছুতেই দুর্গাপুজো করা থেকে পিছু হটছে না। কলকাতা হাইকোর্ট প্রশ্ন করেছে, যেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ সেখানে দুর্গাপুজো করার অনুমতি দেওয়া হয় কিভাবে?

৫০ হাজার টাকা করে ক্লাবগুলোকে দেওয়া হয়েছে। ভোটের আগে এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কিনা? সে প্রশ্ন বিচারক করেছেন। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আইনজীবী এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে পারেননি। চিকিৎসকেরাও উদ্বিগ্ন দুর্গাপুজো কেন্দ্রিক অবস্থান নিয়ে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।