দৃশ্যম সিনেমার মতো প্লট সাজায় স্বামী – স্ত্রী, শেষরক্ষা হল না

ফোর্থ পিলার

সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে পুলিশের দ্বন্দ্ব থাকবে। এই কথা আগে থেকেই মনে করেছিল হত্যাকারীরা। তরুণী সাবা খাতুনের মৃত্যুর রহস্য জাল খুলে ফেলেছে পুলিশ। স্বামী – স্ত্রী খুনের কথা স্বীকার করে নিয়েছে। তরুণীর প্রেমিক শেখ সাজিদ ও তার স্ত্রী অঞ্জুমকে গতকাল গ্রেফতার করা হয়েছিল। শেখ সাজিদ খুনের কথা স্বীকার করেনি। তার মস্তিষ্কে সম্পূর্ণ ঘটনাটি সাজানো ছিল। কিন্তু পুলিশের জেরায় একসময় ভেঙে পড়ে অঞ্জুম। সেই খুনের কথা স্বীকার করে নেয়।

শেখ সাজিদ সাবা খাতুনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। সাবা খাতুন ব্ল্যাকমেল করতে শুরু করেছিল সাজিদ তার সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে চায়নি। সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে যেতে হলে ৭০ হাজার টাকা তাকে দিতে হবে। এই কথা বলে চাপ দিচ্ছিল সাবা। তখন থেকেই সম্ভবত খুনের ছক করেছিল সাজিদ। ঘটনার দিন সন্ধ্যেবেলা অঞ্জুম বাপের বাড়ি গিয়েছিল। এরপর সাজিদ সাবা খাতুনকে বাড়িতে নিয়ে আসে। তাকে মদ খাওয়ানো হয়। দুজনের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হয়েছিল। এরপর গলায় দড়ি ফাঁস লাগিয়ে খুন করা হয় তাকে।

সাবা মারা গেলে ফোন করে গোটা ঘটনা সাজিদ স্ত্রীকে জানায়। এরপর অঞ্জুম বেগম বাড়ি ফিরে আসে। বস্তায় মৃতদেহ ঢোকানো হয়। সম্পূর্ণ দৃশ্যম সিনেমার গল্পের মতো তারা দুজনে সাজায় ঘটনাটি। অঞ্জুম চেয়েছিল স্বামী এই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসুক। তাই লাশ পাচারের জন্য স্ত্রী রাজি হয়ে যায়। এরপরেই তারা একের পর এক গল্প বানাতে শুরু করে।

স্বামী-স্ত্রী দুজনে মিলে ঝগড়াঝাটি অশান্তি করে বাড়ির মধ্যে। কেন না বলে স্ত্রী বাপের বাড়ি গিয়েছে? সেই নিয়ে শুরু হয় কথা কাটাকাটি। দুজনের মধ্যে হাতাহাতিও হয় বলে খবর। প্রতিবেশীরা এই ঘটনাটি টের পেয়েছিল। এরপর এক যুবকের কাছ থেকে সাজিদ মোটরবাইক নেয়। স্বামী, স্ত্রী মিলে সেই বাইকে চড়ে বাচ্চাদের আনতে শ্বশুরবাড়ি গিয়েছিল। যে সব রাস্তায় সিসিটিভি রয়েছে, সেখান দিয়েই ওই মোটরবাইকটি চালিয়ে নিয়ে গিয়েছিল সাজিদ।

বাড়ি ফিরে তারা খাওয়া-দাওয়া করে। যে ঘরে লাশ ছিল সেখানেই স্বামী স্ত্রী মিলে খায়। রাত দুটো নাগাদ স্বামী-স্ত্রী বস্তাটি রাস্তায় নামিয়ে আনে। দেহটি দূরে ফেলার চিন্তাভাবনা ছিল দুজনের। কিন্তু কয়েকজন যুবক চলে এসেছিল কাছাকাছি। তাই বাড়ির কাছেই বস্তা ফেলে স্বামী-স্ত্রী চলে যায়। তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, সাজিদ পুলিশের ইনফর্মার। তাই তাকে শুরু থেকে পুলিশ সন্দেহ করবে না। এই কথা মোটামুটি পরিষ্কার ছিল। এছাড়াও তার শালি সিভিক ভলেন্টিয়ার। তাই পুলিশ কি ধরনের তদন্ত করতে পারে, সাজিদের কাছে তার আন্দাজ ছিল।

সেখান থেকে সাজিদ সম্পূর্ণ গল্পটি সাজায়। যেখানে প্রতিটি ক্ষেত্রে সিসিটিভিতে স্বামী-স্ত্রীকে একসঙ্গে দেখা যাবে। শুধু তাই নয়, তাদের উপর থেকে সন্দেহ সরে যাবে। এছাড়া সাজিদের বাড়ির সামনে সিসিটিভি দুটি খারাপ। তাই লাশ ফেলে যাওয়ার ঘটনার কোনও প্রমাণ থাকবে না। জেরার মুখে অঞ্জুম ভেঙে পড়ে। না হলে সাজিদ তার বয়ানে তার আগে অবধি অটুট ছিল।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।