দেবাঞ্জনের সশস্ত্র দেহরক্ষী আছে, বাড়িটি পুরসভা অফিস বলে জানত সকলে

ফোর্থ পিলার

ভুয়ো টিকাকরণ কেন্দ্র হিসেবে কসবার ওই বাড়ি একবারও মনে হয়নি। গ্রেফতার হওয়া ভুয়ো আইএএস অফিসার দেবাঞ্জন দেবকে নিয়ে প্রশ্ন আরও গভীর হচ্ছে। বাগরি মার্কেট থেকে দেবাঞ্জন ভ্যাকসিন কিনেছেন। এই কথা পুলিশি জেরায় সে জানিয়েছে। কিন্তু কীভাবে এই ভ্যাকসিন বাগরি মার্কেট থেকে পাওয়া গেল? সেই প্রশ্ন থাকছে। তদন্তকারীরা বাগরি মার্কেট ঘুরেছেন প্রথম দফায়। কোথাও ভ্যাক্সিনের সন্ধান তিনি পাননি।

দেবাঞ্জন জানিয়েছেন, কোভিশিল্ড ভ্যাক্সিন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এভাবে কি করে ভ্যাকসিন পাওয়া যেতে পারে? তাই নিয়ে প্রশ্ন যথেষ্ট রয়েছে। কসবা অঞ্চলে দেবাঞ্জনের অফিস দেখে তাজ্জব বনে যেতে হয়। সাধারণ মানুষজন মনে করেছিল ওটি আসলে কলকাতা পুরসভার অফিস। তাই কোনও সমস্যা তাদের চোখে পড়েনি। ফলাও করে লেখা ছিল কলকাতা পুরসভার ভ্যাকসিন সেন্টার। শুধু তাই নয়, অফিসের ভেতর কলকাতা পুরসভার ক্যালেন্ডার ঝুলছে। যে সমস্ত কর্মীরা দেবাঞ্জনের অফিসে কাজ করতেন, তাদের প্রত্যেকের মুখে কলকাতা পুরসভার লোগো সম্বলিত মাক্স রয়েছে।

এত বড় প্রতারণা কি করে চোখের সামনে হল? তাই নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। টানা ১০ দিন ভ্যাক্সিনেশন ক্যাম্প হয়েছে সেখানে। পরতে পরতে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে ওই ক্যাম্পে নার্সরা যোগ দিয়েছিলেন টিকা দেওয়ার জন্য। তাদের টাকা দেওয়া হয় মাহিনা হিসেবে। কর্মীরা যারা কাজ করতেন তারাও মোটা টাকা মাইনে পেতেন। দেবাঞ্জন নিজেকে কলকাতা পুরসভার যুগ্ম-কমিশনার বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। এই ভাবেই জালিয়াতির মাত্রা বাড়তে থাকে। নীল বাতি লাগানো গাড়িতে তিনি ঘুরতেন। শুধু তাই নয়, তার সশস্ত্র দেহরক্ষী ছিল। চারতলা বাড়ির উপর তলায় তার অফিস। দামি বিলাসবহুল গাড়ি ব্যবহৃত হত।

তিনি আইএএস অফিসার। একথাও সাংসদ মিমি চক্রবর্তীকে তিনি জানিয়েছিলেন। এই অবস্থায় সন্দেহ কোথাও দানা বাঁধেনি। কিন্তু প্রশ্ন আরও অনেক গভীরে। ওই ভ্যাক্সিনেশন সেন্টার থেকে গড়ে ১৫০ জন করে ভ্যাকসিন নিয়েছেন। ১০ দিনের টিকাকরণ কর্মসূচি হয়েছে। মোট দেড় হাজার টিকাকরণ সেখানে হয়েছিল। তারা কি ভ্যাক্সিন পেল? তাই নিয়ে এখন দুশ্চিন্তা বাড়ছে। ভ্যাক্সিন প্রাপকদের বাড়ি বাড়ি স্বাস্থ্য দফতরের লোকজন যাবেন। এই কথা জানানো হয়েছে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আমহার্স্ট স্ট্রিট সিটি কলেজে তিনি ভ্যাক্সিনেশন ক্যাম্প করেছিলেন। অধ্যক্ষ ছাড়া অধ্যাপকরা সকলেই ভ্যাক্সিন নিয়েছেন। সেখানে প্রাক্তনীরাও সেই ভ্যাক্সিনেশন ক্যাম্পে কলেজে উপস্থিত ছিলেন। তাদের অনেকে সেই ভ্যাক্সিন নিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।