ধর্ম নাকি কর্ম? কঠিন পরিস্থিতিতে বাড়িতে থেকেই উৎসব পালন করতে অনুরোধ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

ফোর্থ পিলার

ধর্ম নাকি কর্ম? জীবনে কোনটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ? এই প্রশ্ন দেশের মানুষের সামনে রেখেছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন। উৎসব পালন করতে গিয়ে জীবনের ঝুঁকি নেওয়া কি উচিত? করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে ভারতবাসীর সামনে এই প্রশ্নই এখন রাখছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। করোনা ভাইরাসের ঢেউ নভেম্বর মাসে আরও একবার আসতে চলেছে। পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠবে বেশ কিছু রাজ্যে। স্বাস্থ্যমন্ত্রক এই আশঙ্কা করছে।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন এটি সংবাদমাধ্যমে এই বিষয়ে বক্তব্য রেখেছেন। চলতি মাস শেষের থেকেই উৎসব পার্বণ শুরু হচ্ছে। সাধারণ মানুষের ঢল নামছে রাস্তায়। পশ্চিমবঙ্গে বাঙালির সব থেকে বড় উৎসব দুর্গাপূজা শুরু হচ্ছে। এরপর দশেরা রয়েছে। দীপাবলীর মতো গুরুত্বপূর্ণ আলোর উৎসব রয়েছে গোটা ভারতবর্ষে। পরিস্থিতি আয়ত্বের বাইরে চলে যেতে পারে সামাজিক দূরত্ব বজায় না থাকলে। এই কথা চিকিৎসকরা বারবার জানিয়ে আসছেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সেখান থেকেই আজ জনমানসের কাছে বার্তা দিলেন।

‘সানডে সংবাদ’ অনুষ্ঠানে একথা বলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সোশ্যাল মিডিয়ায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন হর্ষ বর্ধন। তিনি বলেন, “ধর্মে বিশ্বাস রয়েছে সেটা দেখানোর জন্য প্রচুর সংখ্যায় বাইরে বেরিয়ে জমায়েত করার কোনও দরকার নেই। সেটা করলে আরও বেশি নিজেদের বিপদ ডেকে আনব। ভগবান কৃষ্ণ বলেছেন নিজের লক্ষ্যে মনোনিবেশ কর। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে এই ভাইরাসকে শেষ করে মানবতাকে বাঁচানো। এটাই আমাদের ধর্ম। এটাই গোটা বিশ্বের ধর্ম।”

তিনি আরও বলেন, “ঠান্ডা আবহাওয়া কম আর্দ্রতায় এই ভাইরাস অনেক বেশি সক্রিয় থাকে। তাই শীতের মরসুমে এই ভাইরাস আরও বেশি সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে। সেই সময় সংক্রমণের মাত্রা আরও বেড়ে যেতে পারে।” পশ্চিমবঙ্গের করোনার ঢেউ আসতে চলেছে নভেম্বর মাসে। পরিস্থিতি আয়ত্বের বাইরে চলে যেতে পারে। একথাও মনে করা হচ্ছে। দিল্লিতে সংক্রমণ দ্বিতীয় দফায় ছড়াবে। কেজরিওয়াল সরকার দিল্লিতে দুর্গাপুজোর অনুমতি এখনও দেয়নি। ওনাম উৎসবের পরে কেরালায় সংক্রমণের মাত্রা এক ধাক্কায় বেড়ে গিয়েছিল অনেকটাই। কাজেই পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগের হতে চলেছে আগামী এক মাসের মধ্যে।

হর্ষ বর্ধন আরও বলেন, “কঠিন পরিস্থিতিতে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। কোনও ধর্ম বা ভগবান বলে না বাইরে বেরিয়ে জাঁকজমক করে উৎসব করতে হবে। প্যান্ডেল, মন্দির বা মসজিদ সবাই প্রার্থনা করতে যান।” বাড়িতে থেকেই উৎসবে শামিল হতে বার্তা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।