ধর্ষণের প্রতিবাদে তরুণী বসলেন রাস্তায়, ব্যস্ত দিল্লির কেউ সঙ্গ দিল না তার

ফোর্থ পিলার

হায়দরাবাদের চিকিৎসকের পুড়ে যাওয়া শরীর আরও একবার প্রশ্ন তুলে দিল শিক্ষিত সমাজে। এই দেশ কতটা মেয়েদের জন্য সুরক্ষিত। এক শীতের রাতে দিল্লির নির্ভয়া কাণ্ড হয়েছিল। লজ্জার ভারতবর্ষ মুখ লুকিয়ে ছিল প্রশ্নের থেকে বাঁচতে। ধর্ষণ বন্ধ হয়নি। বন্ধ হয়নি মেয়েদের দিকে লোলুপ হাত বাড়ানোর সংস্কৃতি।

আরও একটি ভয়ঙ্কর ছবি উঠে এল হায়দরাবাদ, উত্তরপ্রদেশে। আজ দিল্লি দেখল আরও এক ঘটনা। একটি না বলে দুটি ছবি বলাই ভালো। এক চাকুরিরতা তরুণী, তিনি দিল্লির রাস্তায় প্ল্যাকার্ড নিয়ে প্রতিবাদ জানাতে বসলেন। হায়দরাবাদ ধর্ষণের ঘটনা তাকে আরও ভিত করে দিয়েছে। পোড়া কালো শরীর দেখে সত্যিই বহু মানুষ আজ ভীত। সেই দলে তিনিও আছেন।

অনু দুবে আজ রাস্তায় বসেছিলেন প্রতিবাদে। হাতের প্ল্যাকার্ডে লেখা আছে, তিনি তার ‘ঘর ভারতবর্ষে সুরক্ষিত নন। কেন? ‘ তিনি কেন সুরক্ষিত নন। সেই প্রশ্নই তিনি ছুঁড়ে দিয়েছেন। তবে আরও বড় কথা, তাকে দেখে লোকজন পাশ দিয়ে চলে গিয়েছে। ব্যস্ততম দিল্লি আরও লজ্জাজনক হয়ে উঠল এই ঘটনায়। সামান্য পাশে বসার অপেক্ষা ইচ্ছাপ্রকাশ না করে পুরুষ-মহিলা নির্বিশেষে অফিসের সময় রাস্তা দিয়ে মানুষ যাতায়াত করেছেন। তাকে দেখে কেউ দাঁড়িয়েছেন। কেউ সেই চেষ্টাও করেননি।

এক সর্বভারতীয় চ্যানেলের মাধ্যমে সেই ছবি ধরা পড়েছে। আজ সকাল সাতটা থেকে ওই তরুণী বসেছিলেন রাস্তায়। প্রতিবাদ করবেন প্রতিদিন এরপর থেকে। সকাল সাতটায় তিনি বসবেন। তারপর অফিসে যাবেন। কিন্তু আরও বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন এই তরুণী। তার এখন ভয় করতে মন চায় না। দিনের পর দিন ভয় পেতে পেতে সে ক্লান্ত। ক্লান্ত বাড়ির লোকের এক প্রশ্ন শুনে। তিনি যখনই বাড়ি থেকে বার হন, তখনই প্রশ্ন ওঠে কখন বাড়ি ফিরবেন। আসলে বাড়ির লোকের ভয় গ্রাস করে রয়েছে, তার মেয়ে সুরক্ষিত তো?

অনু মালিক গলার স্বর ভারী হয়ে গিয়েছে। চোখের কোনে জল পড়েছে। তিনি বলেছেন, গতকাল হায়দরাবাদের তরুণী জ্বলে পুড়ে শেষ হয়ে গিয়েছে। আজ সে প্রতিবাদ করছে। আগামীকাল হয়তো সেও এইভাবে পুড়ে ছাই হয়ে যাবে। কারোর কিছু যাবে – আসবে না। দিল্লির নির্ভয়াকাণ্ডের পর সমীক্ষা বলছে ভারতবর্ষে প্রতি ২০ মিনিটে একটি করে ধর্ষণ হয়। কেন ভারতের মেয়েরা সুরক্ষিত নয়?

সত্যিই তো কেন নয়! তবে তার থেকেও বড় প্রশ্ন কেন কোনও মানুষকে আজ অনু সঙ্গে পেলেন না? মানুষের জীবনে কি কোনও ঘটনাই আজ আর দাগ কাটে না? অনু জানিয়েছেন, তিনি কারোর কাছ থেকেই এখন আর কিছু আশা করেন না। কেউ তার পাশে আজ এসে বসবে এমনটা তিনি নিজেও ভাবেননি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।