নাইট কার্ফু হচ্ছে না রাজ্যে, ৪৫০০ টি বেড বাড়ানো হচ্ছে, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

ফোর্থ পিলার

রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। নবান্নে জরুরি বৈঠক হয়েছে এই বিষয়ে। পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য একাধিক বিধিনিষেধ, নিয়ম-নীতি তৈরি হয়েছে। মালদহ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিক বৈঠক করেছেন। রাজ্য কি নাইট কার্ফুর দিকে এগোচ্ছে? এই প্রশ্ন করা হয়েছিল। সেই বক্তব্যতে মুখ্যমন্ত্রী সায় দেননি। নাইট কার্ফু করে খুব একটা বেশি সমাধান হয় না। একথা মনে করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বেশ কিছু নির্দেশিকা জারি হয়েছে নবান্ন থেকে। এছাড়াও আগামী দিনে সরকারি কর্মীদের কাজের ক্ষেত্র চিন্তাভাবনা করছে নবান্ন। রাজ্যে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীদের জন্য বেডের অভাব দেখা দিয়েছে। করোনার রোগীদের জন্য বেড অপ্রতুল। এই অবস্থায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ফের সাজানোর দিকে বার্তা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরকারি হাসপাতালগুলিতে সাড়ে চার হাজার নতুন বেডের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। দ্রুত এই পরিষেবা পাওয়া যাবে। এই বক্তব্য শোনা গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর গলায়।

শুধু তাই নয়, ২০০ টি সেভ হোমের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সেফ হোমে ১১০০ টি বেডের ব্যবস্থা থাকছে। ৪০০ টি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হচ্ছে প্রাথমিকভাবে। করোনা আক্রান্তদের জন্য এই ব্যবস্থা থাকছে। করোনার সংক্রমণ খুব বেশি মাত্রায় না থাকলে হাসপাতালে ভর্তি করানো যাবে না। এই বক্তব্য শোনা যাচ্ছে চিকিৎসক মহলে।
বাড়িতে রেখেই চিকিৎসা সম্ভব। এই কথা বলা হচ্ছে। সরকারি কর্মীদের হাজিরা ফের ৫০ শতাংশ করে দেওয়া হয়েছে। বাড়িতে থেকেই কাজের ব্যবস্থা করা হচ্ছে নতুন করে। সামাজিক দূরত্ব বজায় থাকে। সে বক্তব্য রাখা হচ্ছে।

সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা আবশ্যক। সেই হিসেবে ফের মানুষকে বোঝানোর দায়িত্ব নিতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে রাজ্যে ২০০০ করোনা আক্রান্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। এই বিষয়টি যথেষ্ট চিন্তাজনক। কিন্তু পরিস্থিতির দিকে নজর রয়েছে। ভোটের জন্য করোনার সংক্রমণ অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। এই বক্তব্য মেনে নিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ।তিনি নিজে কলকাতায় প্রচার করা বন্ধ করেছেন। জেলায় সভার সময়সীমা কমিয়ে ফেলা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় সরকার আগে টিকার ব্যবস্থা করলে এত সমস্যা হত না। এই কথা আবারও বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। পরিস্থিতির দিকে নজর রয়েছে। লকডাউন, নাইট কার্ফুর দিকে যেতে চাইছে না রাজ্য সরকার। একথা পরিষ্কার করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “নাইট কার্ফু জারির প্রয়োজন নেই। আমি মনে করি না, ওটা কোনও সমাধান। সমাধান স্রেফ মানুষের সচেতনতা।”

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।