নাম না করে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঠুকলেন শুভেন্দু

ফোর্থ পিলার

সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর বেজায় চটেছেন শুভেন্দু অধিকারী। নাম না করে কার্যত আক্রমণ করলেন শুভেন্দু। হুগলি জেলায় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে জনমত গঠনের চেষ্টা করলেন তিনি মানুষ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে করেন কিনা? সে প্রশ্ন কার্যত ঘুরিয়ে সভা মঞ্চ থেকে শুভেন্দু করেছেন।

শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসে জল্পনা চলছেই। রামনগরের সভা থেকে শুভেন্দু জানিয়েছিলেন, তিনি এখনও তৃণমূল কংগ্রেসে রয়েছেন সেই কথার পরে কিছুটা জল্পনা কমেছিল। কিন্তু এখনও পরিস্থিতি কোন দিকে বইছে বোঝা সম্ভব হচ্ছে না। হুগলির বলাগড়ে আজ শুক্রবার শুভেন্দু অধিকারীর সভা ছিল। এই এলাকা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সেখানেই বক্তব্য রাখতে ওঠেন শুভেন্দু। খুব একটা বেশি সময় তিনি বক্তব্য রাখেননি। একটা সময় এসে কার্যত নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন।

শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আমি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলছি প্রাক্তন সাংসদ প্রয়াত অনিল বসু যখন কারোর বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত অশালীন আক্রমণ করতেন, তখন হুগলি জেলার মানুষ সেটা মেনে নেয়নি। আজ যদি কোনও বর্তমান জনপ্রতিনিধি আমার বা আমার পরিবারের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণ করেন, আপনারা কি মেনে নেবেন?” এই প্রশ্ন করার পরেই সমবেত জনগণ না বলে চিৎকার করেন। সেই চিৎকার যথেষ্ট জোরের সঙ্গে শোনা গিয়েছে। একথা বলাই বাহুল্য। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আপনারা কি এই কালচার সমর্থন করেন? সভায় আসা সাধারণ মানুষ আরও একবার সমবেত কণ্ঠে না বলেন।

শুভেন্দু অধিকারীকে ঘিরে তৃণমূল কংগ্রেস যথেষ্ট বিব্রত। তার মধ্যেই সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অশালীন মন্তব্য করে বসেছিলেন। আক্রমণ করে বসেছিলেন শুভেন্দু অধিকারীকে। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামের গাছের তলায় বড় হয়েছিস। চারটে মন্ত্রিত্ব পেয়েছিস। চারখানা চেয়ারে আছিস। কত পেট্রোল পাম্প করেছিস! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় না থাকলে মিউনিসিপ্যালিটি তে আলু বেচতিস রে, আলু বেচতিস।” এই কথা কার্যত শুভেন্দু অধিকারীকে বলা হয়েছিল। এবার পরিষ্কার।

শুভেন্দু অধিকারী সম্ভবত অপেক্ষা করেছিলেন নির্দিষ্ট দিনের জন্য। আজ হুগলিতে এসে সেই বার্তা দিয়ে গিয়েছেন। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম একবারও শুভেন্দু উচ্চারণ করেননি। কিন্তু সাংসদকে উদ্দেশ্য করেই এই কথা বলা হয়েছে। সেটি বলার অপেক্ষা রাখে না।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।