নিভারের দাপটে রাস্তাঘাট জলমগ্ন, ভেঙেছে প্রচুর গাছ, মৃত্যু তিনজনের

ফোর্থ পিলার

ঘূর্ণিঝড়ের দাপটে দিশেহারা তামিলনাড়ু। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পাওয়া খবরে তিনজন মারা গিয়েছেন। রাজ্যের বহু এলাকা জলমগ্ন। সড়ক পরিবহণ ব্যবস্থা স্তব্ধ হয়ে রয়েছে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে নিরাপদে থাকতে সাধারণ মানুষকে। বিশেষ কোনও প্রয়োজন ছাড়া রাস্তায় বেরনো নিষেধ। সন্ধে নাগাদও বৃষ্টি চলছে অবিরত। তবে বৃষ্টির বেগ কমেছে অনেকটাই। তামিলনাড়ুর বেশ কিছু অঞ্চলে কয়েক ঘণ্টায় ৩০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হয়েছে।

আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, গতকাল রাত আড়াইটে নাগাদ স্থলভাগে আঘাত হানে এই ঘূর্ণিঝড়। প্রথমে বলা হয়েছিল অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় হিসেবে আঘাত হানবে। তার গতিবেগ সর্বোচ্চ থাকতে পারে ১৫০ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টায়। দেখা যায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার গতিতে আঘাত হেনেছে নিভার। সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ১২০ কিলোমিটার। বুধবার দুপুরের পর থেকেই ঝড়ের গতিবেগ বাড়ছিল। যত রাত বেড়েছে হাওয়ার গতিবেগ তছনছ করেছে সব কিছু। বৃষ্টির ঝাপটা ক্রমশ বেড়েছে। রাত আড়াইটে নাগাদ প্রথম ঝাপটা আসে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছিল, স্থলভাগে আঘাত করল নিভার।

প্রায় দুই লক্ষের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তাই হতাহতের তেমন কোনও সংবাদ এখনও পাওয়া যায়নি। বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের টিম কাজ করছে। তামিলনাড়ু ও পুদুচেরিতে বহু গাছ পড়ে গিয়েছে। রাস্তাঘাট বন্ধ অনেক জায়গাতেই। অতিবৃষ্টির কারণে চেন্নাইয়ের অনেক জায়গা জলমগ্ন। তামিলনাড়ুর উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে জল রয়েছে। পুদুচেরির একাধিক এলাকা গতকাল রাত থেকেই জলে ডুবে গিয়েছে। নিরাপদ স্থানে সাধারণ মানুষকে আগেই সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

বিপর্যয় কতটা গভীর, তার হিসেব শুরু হয়েছে। আরও একদিন না গেলে প্রাথমিক তথ্য সামনে আসবে না। একথা জানাচ্ছে রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত চেন্নাই বিমানবন্দর বন্ধ ছিল। বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। রেলপথ বন্ধ। অনেক জায়গায় রেললাইনের উপর গাছ পড়েছে। পাশাপাশি জল দাঁড়িয়ে রয়েছে রেললাইনের উপর। আগামী কাল পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে। আশা করা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় সরকার শুরু থেকেই যোগাযোগ রেখেছে তামিলনাড়ু সরকারের সঙ্গে। কন্ট্রোল রুম থেকে প্রতিনিয়ত বার্তা যাওয়া আসা করছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে খোঁজ নিয়েছেন পরিস্থিতির। বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর কাজ করছে। পরিস্থিতির উন্নতি হবে। একথা মনে করেছেন অমিত শাহ। সবরকম সাহায্যের জন্য প্রস্তুত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও উদ্বিগ্ন ছিলেন এই বিপর্যয় নিয়ে। আমফানের পরে এত বড় একটি সিভিয়ার সাইক্লোন আসার কথা ছিল। যদিও শেষ মুহূর্তে নিভার তার শক্তি ক্ষয় করেছিল কিছুটা। ১১০ কিলোমিটার বেগে স্থলভাগের আঘাত করে নিভার। সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ১২০ থেকে ১৩০ কিলোমিটার। তবে সেই আঘাতেই বেসামাল বহু এলাকা। প্রধানমন্ত্রীও সম্পূর্ণ সাহায্যের আশ্বাস জানিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।