পথ বদল করেছে নিম্নচাপ, উপকূল এলাকা ধরে গতিমুখ বাংলাদেশ, আজ থেকেই ভারী বৃষ্টি

ফোর্থ পিলার

বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ আরও শক্তি বাড়িয়েছে। তার গতিপথ বদল হয়েছে বলে খবর। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, স্থলভাগ দিয়ে এখন আর নিম্নচাপ যাবে না। উপকূলবর্তী এলাকা ধরে এই নিম্নচাপ আরও রাস্তা যাবে। তার ফলে ক্রমে শক্তিশালী হয়ে উঠবে সে। আজ থেকে আগামী ৩ দিন এই নিম্নচাপের দরুন আবহাওয়া বৃষ্টিমুখর হবে বলে ইতিমধ্যেই জানানো হয়েছে। গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ষষ্ঠীর আকাশ সকাল থেকেই মেঘে ঢাকা। কয়েক ফসলা পশলা বৃষ্টি হয়েছে বিভিন্ন জায়গায়।

পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ তৈরি হয়েছিল। প্রথমে বলা হয়েছে ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল দিয়ে স্থলভাগে ঢুকবে এই নিম্নচাপ। পশ্চিমবঙ্গের উপর তেমন প্রভাব পড়বে না। তবে উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে ভালো বৃষ্টিপাত হবে। সর্বশেষ তথ্য জানাচ্ছে, গতিপথ পরিবর্তন করেছে নিম্নচাপ। আরও ঘনীভূত হয়েছে সে শক্তি বাড়িয়ে অনেকটাই। এই মুহূর্তে ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশের দিকে মুখ রয়েছে তার। স্থলভাগের উপর দিয়ে নয়, উপকূলবর্তী এলাকায় জলভাগের উপর দিয়ে প্রবাহিত হবে এই নিম্নচাপ। যে কারণে জলভাগ থেকে আরও বেশি শক্তি সঞ্চার করবে আগামী সময়গুলিতে। একথাই জানাচ্ছেন আবহবিদেরা।

উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হবে। একথা পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। দুই মেদিনীপুর দুই ২৪ পরগনায় বৃষ্টির পরিমাণ বেশি থাকবে। কলকাতাও ভারী বৃষ্টির থেকে নিস্তার পাবে না। গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ থাকবে যথেষ্ট বেশি। হাওড়া, হুগলি, নদিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাতে আগামী তিনদিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হবে। কলকাতাতে বৃষ্টি চলবে আগামী তিন দিন। ইতিমধ্যেই মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। আগামী ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকবে। তাই মৎস্যজীবীরা মাছ ধরতে যাবেন না।

পঞ্চমীর বিকেল থেকেই আবহাওয়ার বদল হতে শুরু করেছিল। ষষ্ঠীর সকাল থেকে আকাশে ঘন মেঘের আনাগোনা। বৃষ্টি হয়ে গিয়েছে বেলা ১২ টা পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গাতেই। হাওয়ার গতিবেগ বেড়েছে। আবহাওয়ার পরিবর্তন হচ্ছে দ্রুত। উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত ঝোড়ো হাওয়া থাকবে। এমন ইঙ্গিত করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। পুজো এবার দর্শকবিহীন থাকবে। একথা হাইকোর্ট জানিয়ে দিয়েছে। কিন্তু সাধারণ মানুষ রাস্তায় বেরোলে বৃষ্টিতে নাকাল হবে। একথা জানানো হচ্ছে আবহাওয়া দফতর থেকে। পরিস্থিতি যাতে আয়ত্ত থাকে সেজন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

আবহাওয়ার বদল হওয়ায় অস্বস্তিসূচক কেটেছে অনেকটাই। তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে। আজ দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড থাকবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। গতকাল তাপমাত্রা ছিল ৩৩ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড। স্বাভাবিকের থেকে ১ ডিগ্রি বেশি। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৬ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড। স্বাভাবিকের থেকে ৩ ডিগ্রি বেশি। বাতাসে আদ্রতার পরিমাণ সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ। সর্বনিম্ন ৬১ শতাংশ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।