পাঁচ ঘণ্টা লাগিয়েছে পুলিশ অভিযোগ নিতে, বাবা ও বোন রাস্তায় খুঁজে বেরিয়েছিলেন সেই রাতে মেয়েকে

ফোর্থ পিলার

ঘটনার রাতে পুলিশ কর্মীরা যদি অভিযোগ নিয়ে দ্রুত তল্লাশি অভিযান চালাত তাহলে হয়তো এমন মর্মান্তিক পরিণতি হত না। হায়দরাবাদের চিকিৎসকের মর্মান্তিক মৃত্যুতে এমনটাই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। নির্যাতিতার পরিবারের আক্ষেপ, পুলিশ দ্রুত তৎপর হলে তরুণীকে বাঁচানো যেত। পুলিশ অভিযোগ নিতেই পাঁচ ঘণ্টা দেরি করেছে। এক থানা থেকে অন্য থানায় তারা ঘুরে বেড়িয়েছেন। রাস্তায় রাতের অন্ধকারে মেয়েকে খুঁজেছেন।

এখনও অবধি এক সাব ইন্সপেক্টর সহ দুই পুলিশ কর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। সাইবরাবাদের পুলিস কমিশনার বিসি সজ্জনার জানিয়েছেন, সেই রাতে শামশাবাদ থানা নিখোঁজ ডায়েরি নিতে দেরি করেছিল। ডিউটি চলাকালীন দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়েছেন উপস্থিত পুলিসকর্মীরা। বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে সাব ইন্সপেক্টর এম রবি কুমার, হেড কনস্টেবল পি বেণুগোপাল রেড্ডি ও এ সত্যনারায়ণ গৌড়ের বিরুদ্ধে। তাদের সাসপেন্ড করা হয়েছে।

ফোনে কথার বলার সময় দিদিরি বিপদের আভাস পেয়েছিলেন বোন। রাতেই টোল্পলাজায় পৌঁছে গিয়েছিলেন বাবা ও মেয়ে। মেয়েকে খুঁজে পাননি তারা। এরপর প্রথমে আরজিআইএ থানা যান তারা। কিন্তু সেখান থেকে বলে দেওয়া হয় সেটি শামসাবাদ থানার ঘটনা। কাজেই সেখানেই অভিযোগ জানাতে হবে। এক থানা থেকে অন্য থানা ঘোরাঘুরি করতে অনেক সময় লেগে গিয়েছিল। তার অনেক পরে পুলিশ অভিযোগ নেয়। শুরু হয় তল্লাশি অভিযান।

তরুণীর বাবার অভিযোগ, টোলপ্লাজায় তন্নতন্ন করে খুঁজে পাওয়া যায়নি মেয়েকে। একটি থানায় যাওয়া হয়। তারপর আরও একটি থানায় যান তারা। ওই থানায় দুজন কনস্টেবল উপস্থিত ছিলেন। তারা কেউ ডায়েরি নিতে চায়নি। উদভ্রান্তের মতো রাস্তাতেই খোঁজাখুঁজি করেছিলেন বাবা ও বোন। পরিবারের অভিযোগ রিপোর্ট নিতেই পাঁচ ঘন্টা দেরি করিয়ে দিয়েছে পুলিশ।

যদিও তেলেঙ্গানার পুলিশ – প্রশাসন বিবৃতিতে জানিয়েছে ‘ইমিডিয়েটলি’ ঘটনায় অ্যাকশন নেওয়া হয়েছে। পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার এই ঘটনা সামনে আসতে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। তিন পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে পূর্ণ তদন্ত হবে এমন কথাও শোনা যাচ্ছে। পুলিশের এই ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছেন তেলেঙ্গানার সাধারণ মানুষ। অভিযুক্ত পুলিশ কর্মীদের সাজা হওয়া উচিত, এমন দাবিও তোলা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।