পাবজি নিষিদ্ধ হল ভারতে, চিনকে বার্তা

ফোর্থ পিলার

অন্যতম জনপ্রিয় মোবাইল গেম ‘পাবজি’ নিষিদ্ধ হয়ে গেল ভারতবর্ষে। কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্র এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছে। যত দ্রুত সম্ভব এই মোবাইল গেমকে ফোনের অ্যাপ থেকে আনইন্সটল করে দেওয়া হবে। ভারত – চিন দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত সংঘাত ফের দেখা দিয়েছে। ভারতের সীমান্তে লাল ফৌজের হানা অব্যাহত। সেই প্রেক্ষাপটে এবার পাবজি নিষিদ্ধ হয়ে যাওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

১১৯ টি চিনা অ্যাপকে নিষিদ্ধ করা হল। বলে রাখা ভালো প্রত্যেকটি অ্যাপ চিনের তৈরি। ভারতে চুটিয়ে ব্যবসা করছিল এই চিনা সংস্থারা। এই বাজারে ভারত থেকে অ্যাপ নিষিদ্ধ হয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। শুরু থেকেই মনে করা হচ্ছে। এর আগে দুবার ধাপে ধাপে চিনা অ্যাপ নিষিদ্ধ হয়েছিল ভারতে। টিকটক নিষিদ্ধ হয়ে যায় গত জুলাই মাসে। দাবি উঠেছিল এবার পাবজি গেমটি নিষিদ্ধ করা হোক ভারতে। এই বিষয় নিয়ে যথেষ্ট বিরূপ মন্তব্য পাওয়া যায়।

ভারতীয় তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রক পাবজিকে নিষিদ্ধ করবে। একথা আগাম আন্দাজ পাওয়া যাচ্ছিল। আজ বুধবার বিকেলে এই নির্দেশিকা জারি হয়েছে। দেশের অখন্ডতা ও সুরক্ষার পক্ষে বিপদজনক এই সমস্ত অ্যাপ ও গেম। এইসবের মাধ্যমে গ্রাহকদের বহু তথ্য পৌঁছে যাচ্ছে বিদেশের হাতে। চিনের কাছে ভারতীয়দের প্রচুর তথ্য রয়েছে। একথা জানাচ্ছিল ওয়াকিবহাল মহল। পাবজি নিষিদ্ধ হল ভারতবর্ষে।

গত তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে ভারতবর্ষে এক জনপ্রিয় মোবাইল গেম পাবজি। একে একে তার লেভেল বাড়াতে হয় খেলাতে। বলে রাখা ভালো, তরুণ ও যুব সম্প্রদায়ের একটা বড় অংশ এই খেলায় মেতে থাকে। বহু কিশোর কিশোরীও এই গেমে তার হাত পাকিয়েছে। এই গেমের মাধ্যমে হিংসা ও ছড়িয়ে পড়ছে তাদের মধ্যে। এই কথা মনস্তত্ত্ববিদরা একাধিকবার জানিয়েছেন। শতকরা হিসেবে দেখা গিয়েছে শহর ও শহরতলির প্রায় ৯০ শতাংশ কলেজ পড়ুয়ার মোবাইলে পাবজি ডাউনলোড করা রয়েছে। তারা অবসর সময় মানে পাবজি খেলায় মত্ত থাকে।

লাদাখ সীমান্ত নিয়ে ক্রমাগত বাড়ছে উত্তেজনা। একের পর এক চিনা অ্যাপকে নিষিদ্ধ করছে ভারত। সব মিলিয়ে ১১৯ টি অ্যাপকে এখন অবধি নিষিদ্ধ করল ভারত সরকার। টিকটক নিষিদ্ধ হওয়ার পর চিন কিছুটা হলেও সমস্যায় পড়েছিল। এবার পাবজি কতটা চিনকে চাপে ফেলতে পারে তা দেখার বিষয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।