প্রয়োজনীয় কারণে টিকিট বিক্রিতে ছাড় স্টাফ স্পেশাল ট্রেনে

ফোর্থ পিলার

শর্তসাপেক্ষে সাধারণ যাত্রীদের টিকিট দেওয়া শুরু করল শিয়ালদহ রেলওয়ে ডিভিশন। গতকাল মঙ্গলবার থেকে এই টিকিট দেওয়া শুরু হয়েছে। যাত্রার প্রয়োজনীয় কারণ এক্ষেত্রে টিকিট কাউন্টারে বলতে হবে। তারপরেই মিলবে টিকিট। সাধারণত স্টাফ স্পেশাল ট্রেন চালানো হচ্ছে শিয়ালদহ ও হাওড়া ডিভিশনে। জরুরি পরিষেবা সঙ্গে যুক্ত থাকা মানুষরা এই ট্রেনে যাতায়াত করতে পারছেন।

রাজ্য সরকার এই বিষয়ে ছাড়পত্র দিয়েছে আগে। কিন্তু দেখা গিয়েছে বহু মানুষ প্রয়োজনীয় কাজে যাতায়াতের জন্য স্টাফ স্পেশাল ট্রেনে উঠে পড়েছেন। সেক্ষেত্রে বচসা বাড়ছে রেল কর্মীদের সঙ্গে। এই অবস্থায় এবার সাধারণ যাত্রীদের স্টাফ স্পেশাল ট্রেনে ওঠার জন্য ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। রবিবার শিয়ালদহ ডিভিশনের প্রত্যেকটি স্টেশনে এই মর্মে বার্তা এসেছিল। ঘোষণা করা হয় এই বিষয়ে। সোমবার ফের বার্তা আসে। এবার মৌখিক ও মোবাইলে মেসেজ মারফত এই বার্তা পাঠানো হয়েছে। কোনও যাত্রী প্রয়োজনীয় কাজে যাওয়ার ক্ষেত্রে টিকিট না পেলে তার দায়িত্ব নিতে হবে সেই স্টেশন কতৃপক্ষকে। একথা পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বহু সাধারণ মানুষ গুরুত্বপূর্ণ কাজে বেরিয়ে গণপরিবহন না পেয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও আত্মীয়রা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। সেখানে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে সমস্যা হয়েছে। কোনও আত্মীয় বাড়িতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সেখানে যাতায়াতের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এইসব ক্ষেত্রে যাত্রীরা স্টাফ স্পেশাল ট্রেনে উঠে পড়েছেন। তারা বচসায় জড়িয়ে পড়ছেন রেলকর্মী ও আরপিএফদের সঙ্গে। সেই সমস্যা কাটানোর জন্য এবার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বহু যাত্রী টিকিট না কেটে ট্রেনে যাতায়াত করছিলেন। এক্ষেত্রে রেলের কাছেও টিকিট বিক্রির টাকা এসে পৌঁছাবে।

জরুরি পরিষেবা সঙ্গে যুক্ত থাকা মানুষজন মান্থলি কেটে যাতায়াত করছেন। কাজেই সমস্যা অনেকটাই সমাধানের রাস্তায় রয়েছে। যাতায়াতের ক্ষেত্রে শিয়ালদহ ডিভিশনে দক্ষিণ, বনগাঁ, ডানকুনি ও মেইন শাখায় টিকিট বিক্রির কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে গতকাল থেকে। হাওড়া ডিভিশনে এখনও এই বিষয়ে কোনও বার্তা দেওয়া হয়নি। সেখানে জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত থাকা মানুষজন কেবল যাতায়াত করছেন। তাদের প্রয়োজনীয় কাগজ দেখিয়ে মান্থলি কেটে যাতায়াত করতে হচ্ছে।

আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত লোকাল ট্রেন বন্ধ রাখা হয়েছে। নবান্ন থেকে ঘোষণা করা হয়েছিল। আগস্ট মাসে লোকাল ট্রেন চলবে কি? এই প্রশ্ন থাকছে। তার থেকেও বড় কথা এবারে স্টাফ স্পেশাল ট্রেনে নিত্যযাত্রীরা যাতায়াত শুরু করছেন। অফিস যাত্রীদের চাপ বাড়ছে। ফলে ট্রেন পরিষেবা অবিলম্বে চালু করা হোক। এই দাবি আরও জোরালো হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।