“প্লিজ নকশাল আঙ্কল, আমার পাপাকে ঘরে পাঠিয়ে দাও”,কাতর অনুরোধ মেয়ের

ফোর্থ পিলার

বাবার জন্য দুশ্চিন্তা করে অঝোরে কেঁদে যাচ্ছে নাবালিকা মেয়ে। বাবাকে সে খুব ভালোবাসে। বাবাকে ফিরিয়ে দিতে বারবার অনুরোধ করছে ওই একরত্তি মেয়ে। সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে সেই ভিডিও এখন ভাইরাল। রায়পুরে মাওবাদী হামলায় ২২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। মাওবাদীরা একজনকে বন্দি করে নিয়ে গিয়েছে। তার মুক্তির জন্যই মেয়ে কাতর অনুরোধ করছে।

মাওবাদীদের কাছেও বার্তা দেওয়া হয়েছে। ওই জওয়ানের নাম কমান্ডো রাকেশ্বর সিংহ মনহাস। প্রথমে তার কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে মাওবাদীরা দুই জায়গায় টেলিফোন করেছিল। জানানো হয় ওই জওয়ান বন্দি তাদের কাছেই। তবে সে ভালো আছে। সংবাদমাধ্যমের কাছে একটি ফোন এসেছিল এই বিষয়ে। মাওবাদী নেতা হিদমা নিজে সেই ফোন করেছিল। এ কথা বলা হয়েছে ফোনের ওপার থেকে। তিনি জানিয়েছিলেন, আটক করা জওয়ান সুস্থ আছে। কয়েকদিনের মধ্যেই তার ছবি প্রকাশ করা হবে।

বাড়িতেও এই বার্তা এসে পৌঁছেছে। কিন্তু জওয়ানের পরিবারের থেকে এই বিষয়ে সন্তুষ্ট হওয়ার কিছু নেই। সদস্যরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে তার ফেরার জন্য। অন্যদিকে মেয়ে কাতর অনুরোধ করে যাচ্ছে মাওবাদীদের উদ্দেশ্যে। রাকেশ্বরের স্ত্রী মিনু মনহাস জানান মেয়ে সারাদিন কেঁদে যাচ্ছে। সংবাদ মাধ্যমের ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে মেয়ে শ্রাঘবী বলে, ‘‘পাপার পরী পাপাকে খুব মিস্ করছে। আমি পাপাকে খুব ভালবাসি। প্লিজ নকশাল আঙ্কল, আমার পাপাকে ঘরে পাঠিয়ে দাও।’’ মাওবাদীরা বিবৃতি দিয়েছে, ওই জওয়ান তাদের হাতেই বন্দি।

মাও হামলায় আহত ৩৩ জন জওয়ান এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। জওয়ানের পরিবারের তরফ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। অবিলম্বে তাকে উদ্ধার করার জন্য আবেদন জানানো হয়েছে চিঠিতে। পরিস্থিতি যথেষ্ট অস্বস্তিকর ওই এলাকার। মাওবাদী হামলা জায়গাগুলিতে এখনও এদিক ওদিক ছড়িয়ে আছে ধ্বংসলীলা চিহ্ন। ওই ছোট্ট মেয়ের অনুরোধ মাওবাদীদের হৃদয়ে নাড়া দেবে কি? এই প্রশ্ন সাধারণ মানুষের মনে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।