ফাঁস লাগানো বিজেপি কর্মীর দেহ উদ্ধার, গায়ে তৃণমূলের পতাকা

ফোর্থ পিলার

বিজেপি কর্মীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হল এবার রায়গঞ্জে। গলায় ফাঁস লাগানো ঝুলন্ত মৃতদেহ মঙ্গলবার সকালে দেখতে পাওয়া যায় স্থানীয় এলাকায়। গতকাল রাত থেকেই নিখোঁজ ছিলেন ওই ব্যক্তি। সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ওই ব্যক্তির গায়ে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় পতাকা জড়ানো ছিল। এই ঘটনায় ফের রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছে।

তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যেই বিজেপির তরফ থেকে সাংবাদিক সম্মেলন করা হয়েছে মঙ্গলবার বেলায়। তৃণমূল কংগ্রেস ভোট পরবর্তী হিংসা চালাচ্ছে রাজ্যজুড়ে। এই ঘটনা আরও একবার জোর দিয়ে দাবি করল বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের। মৃত ব্যক্তির নাম দেবেশ বর্মন। বছর ৫৫- এর দেবেশ বর্মন আগে সিপিএম করতেন। তিনি একসময় সিপিএমের পঞ্চায়েত সদস্য ছিলেন। পরে বিজেপিতে যোগ দেন।

দক্ষিণ বিষ্ণুপুর এলাকার বিজেপির বুথকর্মী হিসেবে তিনি পরিচিত ছিলেন। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের গৌরী পঞ্চায়েত এলাকায়। জানা গিয়েছে, দেবেশ বর্মন গতকাল সন্ধ্যা থেকেই নিখোঁজ ছিলেন। সন্ধ্যায় চা খাওয়ার নাম করে সাইকেল নিয়ে তিনি বাড়ি থেকে বেরোন। তারপর আর তার কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ তৃণমূল কংগ্রেস তাকে খুন করেছে। মঙ্গলবার সকালে বাড়ি থেকে অদূরে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের কথায়, বাড়ি থেকে ৩০০ মিটার দূরে একটি আমগাছে দেহটি ঝুলছিল। গলায় ফাঁস লাগানো রয়েছে। তবে পাদুটি মাটি স্পর্শ করেছিল। ঠিক একই কায়দায় রাজ্যের বিভিন্ন জায়গাতে বিজেপি কর্মীদের এমন ফাঁস লাগানো দেহ আগে দেখতে পাওয়া গিয়েছে। সাইকেলটি অদূরে রাখা ছিল। সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মৃতদেহের সঙ্গে তৃণমূলের পতাকা জড়ানোর রয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস দেবেশ বর্মনকে খুন করেছে। একথা দাবি করা হচ্ছে। যদিও শাসক দল এই কথা মানতে রাজি নয়।

মৃতদেহ উদ্ধারের জন্য পুলিশ পৌঁছেছিল এলাকায়। কিন্তু প্রথমে বিজেপি কর্মী সমর্থকরা মৃতদেহ উদ্ধার করতে দেয়নি। পুলিশের সঙ্গে কিছুটা বচসা হয়। পরে পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে। জেলার পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, ঘটনাটির সম্পূর্ণ তদন্ত শুরু হয়েছে। খুন না কি আত্মহত্যা, সেটি ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানা যাবে। এলাকায় যথেষ্ট উত্তেজনা রয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।