ফিদেল কাস্ত্রো নিজের বাসভবনে রেখে চিকিৎসা করিয়েছিলেন মারাদোনার

ফোর্থ পিলার

পেলে ফুটবলের সম্রাট। দিয়েগো মারাদোনা ফুটবলের রাজপুত্র। পরপর চারটি বিশ্বকাপ দাপিয়ে খেলেছেন মারাদোনা। জীবনে কারোর সামনে এতটুকু মাথা নিচু করেননি। মন যা চেয়েছে ঠিক তাই করেছেন মারাদোনা। ৬০ বছর বয়সে তাঁর জীবন থমকে গেল। ফুটবলার, তারকার বিশ্ব ইতিহাসে তার অসামান্য খেলার নজির থেকে যাবে সব সময়। ফিদেল কাস্ত্রো তার অন্যতম বড় আশ্রয়স্থল ছিলেন।

চার বছর আগে ঠিক একই দিনে ফিদেল কাস্ত্রো মারা গিয়েছিলেন। শোকাতুর হয়েছিলেন মারাদোনা। ঠিক একই দিনে মারাদোনা চলে গেলেন শোকস্তব্ধ করে গোটা বিশ্বকে। বহু মানুষের বাল্যকাল, যৌবন, শৈশবের স্মৃতি টাটকা থাকবে মারাদোনার ফুটবলে। কিংবদন্তি পেলে শোকস্তব্ধ হয়েছেন। দেখা হয়েছে যতবার, দুজন দুজনকে জড়িয়ে ধরেছেন। মারাদোনা না পেলে? কে এগিয়ে ফুটবলের সাম্রাজ্যে? এই নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ হয়েছে দর্শকদের মধ্যে। কিন্তু দুজনের মধ্যে কোনও বিতর্ক কখনও দানা বাঁধেনি।

পেলে লিখেছেন, “একদিন স্বর্গে গিয়ে তোমার সঙ্গে একটা ফুটবলে কিক করব।” দিয়েগো মারাদোনা শেষ সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “আমার প্রার্থনা হল এই অতিমারি যেন অতি দ্রুত শেষ হয়ে যায়। আমার আর্জেন্টিনা আরও এগিয়ে চলুক। আমি চাই আর্জেন্টিনার সবাই খুব খুব ভালো থাকুক।” মারাদোনা মানেই বিতর্কিত চরিত্র। কোকেন তাকে কার্যত শেষ করে দিয়েছে। নেশা, উদ্দাম যৌন সম্পর্ক সহ একাধিক অভিযোগে তিনি বিধ্বস্ত হয়েছেন। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবন কোনওভাবেই বদল করেননি। একসময় আর্জেন্টিনা থেকেও তাকে চলে যেতে হয়েছিল।

সেখানেই এগিয়ে এসেছিল কিউবা। সে দেশের প্রেসিডেন্ট ফিদেল কাস্ত্রো মারাদোনাকে কাছে টেনে নিয়েছিলেন। কিউবাতে মারাদোনাকে রাখা হয়। শুরু হয় চিকিৎসা। সুস্থ জীবনে ফিরে এসেছিলেন মারাদোনা। তবে ফুটবলার হিসেবে আর তিনি মাঠে নামতে পারেননি। শরীর ভেঙে গিয়েছে অনেকটাই। মদ্যপানের অভ্যাস ত্যাগ করতে পারেননি তিনি। পরবর্তীকালে আর্জেন্টিনায় ফিরে গিয়েছিলেন। মানুষ তাকে আগের মতোই গ্রহণ করেছেন।

ফিদেল কাস্ত্রো মারা যাওয়ার পর ভেঙে পড়েছিলেন মারাদোনা। লিখেছিলেন, “আমার জন্য যখন আমার দেশ আর্জেন্টিনার দরজা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, সেই সময় কিউবার দরজা খোলা ছিল। তার জন্য ফিদেলের কাছে আমার ঋণের শেষ নেই।” ফিদেল কাস্ত্রোকে তিনি ‘বন্ধু’ বলতেন। আবার ‘দ্বিতীয় বাবা’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। ফিদেল কাস্ত্রো নিজের বাসভবনে মারাদোনাকে রেখেছিলেন। কোকেনের গ্রাস থেকে মুক্ত করার জন্য চিকিৎসা চলেছে দীর্ঘসময়। সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন মারাদোনা। ফিদেল কাস্ত্রোর মৃত্যুর সময় কিউবার মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন দিয়েগো।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।