ফের বাঘের হানায় মৃত্যু সুন্দরবনে

ফোর্থ পিলার

সুন্দরবনের ভেতর কাঁকড়া ধরতে গিয়ে আবারও এক মৎস্যজীবীর মৃত্যু। বাঘের হানায় শুক্রবার সকালে প্রাণ হারালেন এক মৎস্যজীবী। এবার ঘটনাটি ঘটেছে কুমিরমারী এলাকায়। সুন্দরবনের মরিচঝাঁপি চিলমারীখাল এলাকায় এক ব্যক্তি বাঘের হামলায় মারা যায়। ২৪ ঘন্টার মধ্যে আরও একটি মৃত্যুর ঘটনা ঘটল সুন্দরবন এলাকায়।

শুক্রবার সকালে কাঁকড়া ধরতে বেরিয়েছিলেন মনিরুল গাজি নামে বছর পঁয়ত্রিশের এক ব্যক্তি। তার বাড়ি হিঙ্গলগঞ্জর ঘুন্টি গ্রামে। বসিরহাটের হেমনগর কুমিরমারী এলাকার জঙ্গলে সে যায়। তার সঙ্গে আরও বেশ কিছু লোক ছিল। কাঁকড়া ধরার উদ্দেশ্যে সকলেই গিয়েছিল বনে। সে সময় একটি বাঘ এসে ঝাঁপিয়ে পড়ে মনিরুল গাজির উপর৷ স্থানীয়রা জানাচ্ছে, বাঘের সঙ্গে তার কিছুক্ষণ ধস্তাধস্তি হয়। শেষপর্যন্ত পেরে ওঠেনি মনিরুল। বাঘ তাকে আঁচড়ে- কামড়ে মেরে ফেলে।

উপস্থিত সকলেই প্রাণভয়ে তখন পালিয়েছে। হেমনগর কোস্টাল থানায় খবর যায়। পুলিশ ও বন দফতরের কর্মীরা উপস্থিত হয় ওই এলাকায়। মৃতদেহ খাঁড়ির কাছাকাছি পড়েছিল। রক্তাক্ত ওই ব্যক্তিকে নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অনেক আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। ওই ব্যক্তির জঙ্গলে কাঁকড়া ধরতে ঢোকার কাগজপত্র ছিল কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমেছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে চিলমারী খাল গ্রামে এক ব্যক্তি বাঘের আক্রমণে মারা গিয়েছে। তার নাম বাবুরাম রপ্তান। তিনিও সুন্দরবনের ভিতর ঢুকেছিলেন কাঁকড়া ধরার জন্য। বাঘ তার ঘাড় কামড়ে ধরে। উপস্থিত অন্যান্যরাও ওই ব্যক্তিকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিল। একসময় তারা বাঘের চোখে কাদা পর্যন্ত ছিটিয়ে দেয়। শেষপর্যন্ত বাঘ পালিয়েছিল বনের ভেতর। ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল অন্যান্যরা। নৌকাতেই ওই ব্যক্তি মারা যায়।

আমফান ঝড়ের পর এখন অবধি বহু মানুষ জঙ্গলে গিয়ে বাঘের হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন। প্রায় প্রত্যেকেই কাঁকড়া ধরার উদ্দেশ্যে জঙ্গলে গিয়েছিলেন। গ্রামের মানুষের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। এই মুহূর্তে সে কারণেই কাঁকড়া ধরে জীবিকা নির্বাহ করার চেষ্টা চলছে। একের পর এক প্রাণ যাচ্ছে সাধারণ মানুষের।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।