বাঁচার জন্য আর্তনাদ করছিল বলেই গলা টিপে মারা হয়, চারজনের বয়ানে হতবাক পুলিশও

ফোর্থ পিলার

ধর্ষণ ও খুনের বিষয় নিয়ে যে জবানবন্দি দিয়েছে চার যুবক, তাতে পুলিশ আধিকারিকরাও হতবাক। একঘণ্টার মধ্যেই তারা ওই চিকিৎসককে মেরে ফেলেছিল। তবে লাশ জ্বালিয়েছিল মধ্যরাতে। সেজন্য তাদের ৫০ কিলোমিটার দূরে যেতে হয়েছিল। সন্ধেবেলাতেই তারা ঠিক করেছিল ওই তরুণীর উপর অত্যাচার করা হবে৷

মহম্মদ আরিফ, জল্লু শিবা, জল্লু নবীন ও চিন্তাকুন্তা চেন্নাকাসাভুলু চারজনেরই বাড়ি নারায়ণপেট নামে এক জায়গায়। হায়দরাবাদ থেকে ১৬০ কিলোমিটার দূরে সেই এলাকা। লরির ড্রাইভার ও ক্লিনার হিসাবে তারা কাজ করত। ঘটবার দিন সকালে লরিতে ইঁট নিয়ে এসেছিল। সেই মাল খালাস হচ্ছিল। আর তারা অপেক্ষা করেছিল টোলপ্লাজায়। সেইসময় ওই তরুণীকে স্কুটার রাখতে দেখেছিলেন তারা।

এরপরেই চাকা ফাঁসিয়ে দিয়েছিল তারা। তরুণীর অপেক্ষায় ছিল ওই চারজন। রাত ন’টা নাগাদ ওই তরুণী আসেন। টোলপ্লাজায় এসে দেখেন পিছনের চাকা লিক হয়ে রয়েছে। সমস্যায় পড়েন তরুণী। আরিফরা তাঁকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসে। তরুণী সাহায্য নিতে চায়নি। তাও তারা জোরাজুরি করে৷ দু’জন গাড়িটি নিয়ে একটু এগিয়ে যায় সামনে। বাধ্য হয়ে তরুণীকেও যেতে হয়েছিল সঙ্গে। সে সময় তরুণী বোনকে ফোন করে বলেছিল ঘটনার কথা। একজন তাঁর গাড়ি নিয়ে কিছুদূর ঘুরে এসে বলে, বাইক সারানোর কোনও দোকান খোলা নেই।

সন্দেহ আরও বেড়ে যায় তরুণীর। রাস্তা সে সময় সুনশান। এবার তরুণীকে পাকড়াও করা হয়৷ তাকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয় রাস্তার ধারের একটি ফাঁকা ঘরে। সেখানেই একে একে চার জন তার ধর্ষণ করে। রাত পৌনে ১০ টায় তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তাই বোন আর ফোন করে দিদিকে পাননি। ধর্ষণের সময় তরুণী বাঁচার জন্য চিতকার করছিলেন। তার মুখ চেপে ধরে রাখা হয়েছিল সেজন্য।

ধর্ষণ করার পরেও তরুণী প্রাণ বাঁচানোর জন্য আর্তনাদ করছিলেন। শেষপর্যন্ত রাত ১০টা ২০ নাগাদ তাকে চারজনে মিলে গলা টিপে মেরে ফেলে। এবারেই শুরু হয় আরও এক দুশ্চিন্তা। লাশ সরাতে হবে। সেই বিষয়ে আলোচনা হয়। আরিফ ও নবীন স্কুটারটি কোথুর নামে এক গ্রামে ফেলে আসে। রাত একটা নাগাদ তারা দু’বোতল পেট্রোল কেনে। রাত আরও একটু বাড়লে তারা নিথর শরীরটিকে ট্রাকে তোলে। আড়াইটের সময় চাট্টানপল্লির ওই কালভার্টে পৌঁছে যায়। একধারে দেহটি ফেলে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। নিজেরা এলাকা ছাড়ে। টোলপ্লাজার সিসিটিভি ফুটেজে তাদের চিহ্নিত করা গিয়েছিল। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তরুণীর লাল স্কুটারটিও উদ্ধার করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।