বাঘের হানায় প্রাণ গেল আরও এক মৎস্যজীবীর

ফোর্থ পিলার

বাঘের হানায় আরও একজন মৎস্যজীবী মারা গেলেন। সুন্দরবনের বসিরহাট রেঞ্জের ঝিলা ৪ নম্বর জঙ্গলে মৎস্যজীবীরা কাঁকড়া ধরতে গিয়েছিল। মৃত ব্যক্তির নাম সুশান্ত মন্ডল। গোসাবা ব্লকের লাহিরিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিধান কলোনি এলাকায় তার বাড়ি। দীর্ঘদিন ধরে বাড়িতে বসা, কাজ বন্ধ। সে কারণেই কাঁকড়া ধরতে সুন্দরবনের ভেতর ঢুকেছিলেন তিনি ও কয়েকজন।

রবিবার সকালে ধরণী মন্ডল নামে এক ব্যক্তির নৌকা নিয়ে তারা রওনা দেয়। শিবপদ মন্ডল ও কমলা হাউলি ছিল সঙ্গে। ঝিলা ৪ নম্বর এলাকায় বানতলা খাঁড়িতে তারা কাঁকড়া ধরার জন্য গিয়েছিলেন। খাঁড়ির জলে নেমে কাঁকড়া ধরতে শুরু করেন তারা। মনসংযোগ ছিল সেদিকেই। তাদের একটি বাঘ দূর থেকে নিশানা করেছে। সে কথা তারা আন্দাজ করতে পারেনি। অতর্কিতে সেই বাঘ এসে ঝাঁপিয়ে পড়ে সুশান্তের উপর।

তাকে টেনে নিয়ে জঙ্গলের ভিতরে চলে যায়। সঙ্গীরা ঘটনায় হতচকিত হয়ে পড়েছিল। এরপর তারা গ্রামে গিয়ে অন্যান্যদের খবর দেয়। দল বেঁধে গ্রামের মানুষ জঙ্গলে আসে। তারা মৃতদেহ খুঁজে বের করে। মৃতদেহ তারা গ্রামে নিয়ে যায়। পরিবারের লোকজন গোটা ঘটনায় মর্মাহত। কান্নার রোল ওঠে বাড়িতে।

সঙ্গীরা জানাচ্ছে, প্রত্যেকেই কাঁকড়া ধরার জন্য মনোসংযোগ করেছিল। বাঘ আসতে পারে সেই কথা তারা আন্দাজ করেনি। সুশান্তের উপর এসে বাঘটি ঝাঁপিয়ে পড়ে। কোনও কিছু বোঝার আগেই শুরু হয়ে যায় জলের উপর ঝাপটা। সুশান্তকে এতটুকু সময় দেওয়া হয়নি। জল থেকে সুশান্তকে টেনে নিয়ে জঙ্গলে চলে যায় সেই বাঘ।

ঘূর্ণিঝড় আম্ফান পরবর্তী সময়ে বাঘের হানায় মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। গত দেড় মাসে একাধিক ঘটনা ঘটেছে। গত এক সপ্তাহের মধ্যে দুজন মৎস্যজীবী কাঁকড়া ধরতে গিয়ে প্রাণ হারালেন বাঘের আক্রমণে। বন বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছে, তাদের বনে ঢোকার কাগজপত্র রয়েছে কিনা খতিয়ে দেখা হবে। কাজ না থাকায় কাঁকড়া ধরতে সুন্দরবনের খাঁড়িতে যাচ্ছে লোকজন। সেখানে তারা আক্রান্ত হচ্ছে বাঘের সামনে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।