বাবা-মাকে খুন করেছে ছেলে, ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার দম্পতির মৃতদেহ

ফোর্থ পিলার

মানসিক অবসাদে বাবা-মাকে খুন করেছিল ছেলে। নিজেও হাতের শিরা কেটে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সেই চেষ্টা সফল হয়নি। বন্ধ ফ্ল্যাট থেকে পুলিশ উদ্ধার করল বাবা মায়ের মৃতদেহ। পচন ধরেছে মৃতদেহগুলিতে। ছেলেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের কাছে এই খুনের কথা স্বীকার করেছে ছেলে। হাওড়ার শিবপুরের কইপুকুর এলাকার ঘটনা এটি।

বেশ কয়েকদিন ধরেই এলাকায় একটি পচা গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা কিছু বুঝতে পারছিলেন না বুধবার সকাল থেকে সেই গন্ধ আরও তীব্র হয়। স্থানীয়রা একটি ফ্ল্যাটে উপস্থিত হন। সেখান থেকেই ওই গন্ধ আসছিল। এই অনুমান করা হয়েছে। দরজা ধাক্কা দিলেও ভিতর থেকে কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি। শেষপর্যন্ত পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। শিবপুর থানা থেকে পুলিশ আসে। দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকা হয়।

দম্পতির নাম প্রদ্যুৎ বসু (৭০) ও গোপা বসু (৬৫)। প্রদ্যুৎবাবু একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করতেন। অবসর নিয়েছিলেন তিনি দীর্ঘদিন আগে। বাড়িতে আর্থিক সমস্যা ছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সমস্যা আরও বড় আকার নেয়। জানা গিয়েছে, তাদের একমাত্র ছেলে উচ্চশিক্ষিত। এমএসসি পাশ করেও কোনও চাকরি তিনি পাননি। তাই প্রবল মানসিক চাপ তার দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে। লকডাউন পরিস্থিতিতে আর্থিক দুরবস্থা চরম সীমায় যায়। তাদের একমাত্র পুত্র আরও বেশি মানসিক অবসাদে ভুগতে শুরু করে।

ছেলে তার বাবা-মাকে খুন করেছে। পুলিশ ঢুকলে দেখা যায় ডাইনিং হলে সোফার উপর মহিলার মৃতদেহ রয়েছে। ঘরের ভিতরে খাটের উপরে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে ৭০ বছর বয়সী ওই বৃদ্ধ। খাটের একপাশে থম মেরে বসেছিল ছেলে। তার হাতে কাটা দাগ। সে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছে। একথা পরিষ্কার। পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। ছেলেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

পুলিশের অনুমান, বেশ কয়েকদিন আগেই ওই দম্পতি খুন হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, পরিবারের সদস্যদের কয়েকদিন দেখতে পাওয়া যায়নি। তারা মেলামেশা করতেন না খুব একটা। শুধু তাই নয়, দিন কয়েক ওই ফ্ল্যাটের বাইরে কাউকে বার হতে দেখা যায়নি। ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।