বিপ্লবী ভারতের সূচনা, মোদীর মুখে বাঙালি স্বাধীনতা সংগ্রামের আবেগ

ফোর্থ পিলার

নাগরিকত্ব আইনকে এড়িয়ে গেলেন সম্পূর্ণ। কোনও রাজনৈতিক আলোচনাও রাখলেন না। কয়েক কিলোমিটার দূরে সন্ধেবেলাতেও তখন কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী ‘গো ব্যাক মোদী’ স্লোগান তুলছেন। তারপরেও তিনি ঘুরিয়ে বাঙালি আবেগকেই তার বক্তব্যে ফুটিয়ে তুললেন। রাজনীতির অলিন্দে থেকে আজও চেষ্টা করলেন কথা জাদুতে সম্মোহিত করতে। এবার বিপ্লবী আন্দোলনে জড়িয়ে থাকা মানুষদের কাজ জায়গা পাচ্ছে শহরে।

আজ ওল্ড কারেন্সি বিল্ডিংয়ে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। জানানো হয়, ভিক্টোরিয়া হলের তিন নম্বর গ্যালারির নামকরণ হবে বিপ্লবী ভারত। নরেন্দ্র মোদী জানান, বাংলার বিপ্লবীদের ওই গ্যালারিতে বিশেষ জায়গা দেওয়া হবে। বাঙালিদের মন জয় করার চেষ্টা করলেন তিনি। এমনটাই ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে। ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হল, মেটকাফে হাউস, বেলভেডার বিল্ডিং-সহ চারটি ঐতিহ্য সম্পন্ন বিল্ডিংকে ন্যাশনাল হেরিটেজ হিসেবে ঘোষণা করা হল।

ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হলের যত্ন নেওয়া হয়নি বলে তিনি মনে করেন। আরও যত্ন নিতে হবে। চারটে গ্যালারি অনেক দিন ধরে বন্ধ ছিল। বাকিগুলিও খোলার ব্যবস্থা হবে। তিন নম্বর গ্যালারিতে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু থেকে অরবিন্দ ঘোষ, ক্ষুদিরাম বসু, বিনয়-বাদল-দীনেশ— বাংলার বিপ্লবীদের সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরা হবে।

কলকাতার ট্যাকশালে একটি মুদ্রার মিউজিয়াম করা হবে আগামী দিনে। নরেন্দ্র মোদীর কথায় সুভাষচন্দ্র বসুর নামও উঠে আসে। তিনি বলেন, ‘নেতাজির নামে লালকেল্লায় মিউজিয়াম হয়েছে। আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের একটি দ্বীপের নাম করা হয়েছে তাঁর নামে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন দশকে বাংলাকে নতুন সম্মান দেওয়া হবে। এই মাটির ইতিহাস দেশকে গৌরবান্বিত করেছে।’

হাওড়া ব্রিজের লাইট এন্ড সাউন্ড আজ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী। রাতে তিনি বেলুড় মঠেই রয়েছেন। স্বামীজিদের সঙ্গে কথাবার্তাও বলেন নরেন্দ্র মোদী। তাকে নিয়ে বেলুড় মঠে চরম ব্যস্ততা। নিরাপত্তার কড়াকড়ি। জানা গিয়েছে ভারতের ইতিহাসে এই প্রথম কোনও প্রধানমন্ত্রী বেলুড় মঠে থাকছেন রাতে। জলপথেই তিনি আজ বেলুড় গিয়েছেন। কাল ভোরে প্রধানমন্ত্রী ধ্যান করবেন মঠে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।