বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক, স্বামীকে মেরে মাটির নিচে পুঁতে দিল স্ত্রী ও প্রেমিক

ফোর্থ পিলার

বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কে স্বামী ছিল পথের কাঁটা। তাই তাকে সরাতে হবে। প্রেমিক ও স্ত্রী মিলে স্বামীকে খুনের চক্রান্ত করে। শুধু তাই নয় খুনের পর প্রেমিকের বাড়িতে পুঁতে দেওয়া হয় মৃতদেহ। বন্ধ ঘর থেকে মাটি খুঁড়ে পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করেছে। বেশ কয়েক বছর আগে বারাসতের অনুপম হত্যা ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছিল রাজ্যকে। উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটা তেমনই আরও একটি স্বামী হত্যার ঘটনা সামনে এল।

স্বপ্না সরকার ও প্রেমিক সুজিত দাসকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের জেরা করা হচ্ছে। বুধবার এই মৃতদেহ উদ্ধার হয়। মৃতের নাম রামকৃষ্ণ সরকার। জানা গিয়েছে, রামকৃষ্ণ ও স্বপ্নার অনেক বছরের সংসার। তাদের সন্তান রয়েছে। সুজিতের সঙ্গে রামকৃষ্ণের পরিচয় ছিল আগেই। রামকৃষ্ণের বাড়ি বনগাঁয়। সুজিত গাইঘাটা এলাকায় থাকে। সুজিতের বাড়িতে একাধিকবার স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে রামকৃষ্ণ সরকার এসেছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা সে কথা জানিয়েছে। সুজিত ও স্বপ্নের মধ্যে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। যদিও এই কথা রামকৃষ্ণ জানতেন না।

সুজিতের আগে দুটি বিয়ে ছিল। দুটিই ভেঙে গিয়েছে। স্বপ্নার সঙ্গে তারপর সম্পর্ক হয়। পথের কাঁটা স্বামীকে সরাতে হবে। সেই মতো পরিকল্পনা হয় খুনের। জানা গিয়েছে, স্বপ্না ও রামকৃষ্ণ সুজিতের বাড়িতে গিয়েছিল। পরিকল্পনা মতো রামকৃষ্ণকে মদ খাওয়ানো হয়। এরপর খুন করে সুজিত। সুজিতের বাড়ির পাশেই একটি খাল রয়েছে। তার ধারেই জঙ্গলের মধ্যে এই খুন করা হয় এরপর ঘরে মৃতদেহ নিয়ে এসে পুঁতে ফেলার ব্যবস্থা করা হয়। জানা গিয়েছে, স্বপ্না ও সুজিত দুজনে মিলে ঘরের মধ্যে গর্ত খুঁড়ে থাকে। এরপর মৃতদেহ মাটি চাপা দেওয়া হয়।

মঙ্গলবার পুলিশ তল্লাশিতে নেমেছিল। ঘর থেকে মৃতদেহ উদ্ধার হয়। সুজিত বাড়িতে ছিল না। ঘর তালাবন্ধ ছিল। ঘর থেকে পচা গন্ধ বের হতে থাকে। মাটি খুঁড়ে দেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা শনাক্ত করে মৃতদেহ। এরপর পুলিশ বনগায় তার স্ত্রীকে মৃত্যুর খবর জানায়। সন্দেহ গিয়ে পড়ে তার উপর। জেরা করা হয়। তখনই সামনে আসে গোটা ঘটনার কথা। সুজিত স্বপ্নাকে এরপর গ্রেফতার করে পুলিশ। বনগাঁর এসডিপিও অশেষ বিক্রম দস্তিদার জানিয়েছেন, আরও কেউ ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বাকিটা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।