বিভেদ ভুলে একতার গল্প লিখবে আমেরিকা, ঐক্যের ডাক দিলেন বাইডেন

ফোর্থ পিলার

আমেরিকায় রোদ ঝলমলে দিন। হোয়াইট হাউস থেকে নিজের পরবর্তী ঠিকানায় রওনা হয়ে গিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটন ডিসির সামনে তখন কড়া নিরাপত্তা বলয়। মাছি গলবারও জো নেই। মাহেন্দ্রক্ষণ এসে গেল। প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথগ্রহণ করলেন জো বাইডেন। আমেরিকার এক নতুন ইতিহাস তৈরি হবে আগামী চার বছর। এই বার্তা দিলেন তিনি।

তার কাছ থেকে ভিন্ন বক্তব্য শোনা যাবে। এমনটাই আশা করেছে গোটা পৃথিবী। কিন্তু তার থেকেও এগিয়ে বক্তব্য শুরু করলেন বাইডেন। আমেরিকার এখন কঠিন সময়। মহাদেশ ভাঙতে বসেছে। সেই ঐক্য আবার ফিরিয়ে আনতে হবে। এই কথা বললেন জো বাইডেন। আমেরিকার নাগরিকদের এই কাজে সহযোগিতা চাইলেন তিনি। নতুন আমেরিকা গড়ার ডাক দিলেন তিনি। রাজনৈতিক মহল বলছেন বরাক ওবামা প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার সময় ঐক্যের কথা বলেছিলেন। বাইডেন তার থেকেও এগিয়ে গেলেন। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অবস্থান তুলে ধরলেন স্পষ্টভাবে।

জন এফ কেনেডিকে স্মরণ করেছেন তিনি। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময় খারাপ অবস্থানে গিয়েছে আমেরিকা। সে কথাও জানিয়েছেন। গত চার বছরে আমেরিকার সঙ্গে বহু দেশের সম্পর্ক খারাপ হয়েছে। আমেরিকা সম্পর্কে ভুল বার্তা গিয়েছে। এইসব কিছুকে বদল করতে হবে। দেশের মানুষের জন্য আগামী চার বছর কাজ করতে হবে। ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটা গল্প লিখতে হবে। জো বাইডেনকে শপথবাক্য পাঠ করিয়েছেন প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস। ৩৫ টু শব্দে শপথগ্রহণ করেন তিনি। সেইসময় বাইবেলে হাত দিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন বাইডেন পত্নী।

আমেরিকা গত চারবছরে বর্ণবিদ্বেষ দেখেছে। কালো চামড়ার মানুষদের উপর অত্যাচার হয়েছে। করোনা সময়েও আমেরিকায় আগুন জ্বলেছিল। দেশের মধ্যে উগ্রবাদ মাথাচাড়া দিয়েছে।হিংসা ছড়িয়েছে বিভিন্ন প্রদেশে। নৈরাজ্য গ্রাস করেছে আমেরিকাকে। সেখান থেকে এবার বেরিয়ে আসতে হবে। বর্ণবৈষম্যের জন্য বহু মানুষ ভয়ে থাকেন। সেই ভয় কাটিয়ে তুলতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে আমেরিকা সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। সেই সম্পর্ক আবার প্রতিষ্ঠা হবে বলে বাইডেন জানিয়েছেন।

বহু দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক তলানিতে চলে গিয়েছে। এবার সেইসব সম্পর্ক ফিরিয়ে আনতে হবে। বাইডেন বলেন, “আমরা সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটা সুন্দর আমেরিকার গল্প লিখব। যেখানে কোনও বিভেদ, ভয় থাকবে না। একতা থাকবে। যে আমেরিকার গল্পে কোনও অন্ধকার থাকবে না। আলো থাকবে।”

জো বাইডেন এখনও অবধি আমেরিকার সব থেকে প্রবীণ প্রেসিডেন্ট। ৭৮ বছর তার বয়স। তবে অঙ্গীকার ও প্রত্যয় অনেক বেশি। দ্বিতীয় রোমান ক্যাথলিক হিসেবে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট আসনে বসলেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।